বিশেষ খাদ্যবান্ধন কর্মসূচি (ওএমএস)-এর আওতায় পরিবারভিত্তিক ২ টাকার একটি ফর্ম ২০ টাকায় বিক্রির অভিযোগে দিনাজপুর পৌরসভার এক কাউন্সিলরের সহযোগীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে দিনাজপুর পৌরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সারোয়ার হোসেনের ব্যক্তিগত কার্যালয়ের সহযোগী জিয়াউর রহমানকে এই জরিমানা করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সদর উপজেলার সহাকারী কমিশনার (ভূমি) শাহরিয়ার রহমান।
শাহরিয়ার রহমান বলেন, ‘মাত্র ২ টাকার একটি ফর্ম ২০ টাকায় বিক্রির অভিযোগ পেয়ে আমরা সেই স্থানে যাই। সেখানে গিয়ে বিষয়টির সত্যতা পাই। এরপর ভোক্তা অধিকার আইনে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করি। যদি এরকম কর্মকাণ্ড কেউ পরিচালনা করে, তাহলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে।'
ওই ওয়ার্ডের একাধিক ব্যক্তির অভিযোগ, গত কয়েকদিন ধরে দিনাজপুর পৌরসভার ১১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সারোয়ার হোসেনের ব্যক্তিগত কার্যালয় থেকে বিশেষ খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় পরিবারভিত্তিক (রেশন কার্ড) একটি ফর্ম পূরণ করার কথা বলা হয়েছে। পৌরসভা থেকে প্রত্যেকটি কাউন্সিলরকে এই ফর্ম সরবরাহ করা হয়। যদিও ফর্মটি কাউন্সিলরদের কাছ থেকে নেওয়ার কথা কিন্তু তিনি তার ব্যক্তিগত কার্যালয়ে জিয়াউর রহমানকে দিয়ে ফর্মটি বিক্রি করাচ্ছেন। ফর্মটি ফটোকপি করলে যেকোনও দোকানে ২ টাকার বেশি খরচ হওয়ার কথা নয়। কিন্তু কাউন্সিলরের সেই সহযোগী জিয়াউর রহমান প্রতিটি ফর্মের জন্য ২০ টাকা করে নিচ্ছেন। এরকম কয়েক হাজার মানুষের কাছে ফর্ম বিক্রি করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
রেলবস্তি এলাকার ভিক্ষুক সালমা বেগম অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি প্রথমে একটা ফর্ম ২০ টাকা দিয়ে কিনে এনেছিলাম, কিন্তু সেই ফর্মটিতে সামান্য ভুল হওয়ার কারণে আমাকে আবার ২০ টাকা দিয়ে নতুন একটি ফর্ম কিনতে হয়েছে। এই দিনে আমার মতো ভিক্ষুকের ৪০ টাকা খরচ করাটা কঠিন বিষয়। কিন্তু উপায় না পেয়ে সরকারের স্বল্পমূল্যের চালের আশায় ফর্ম পূরণ করেছি।’