বিজয় দিবস উদযাপনের প্রস্তুত সদ্য বিলুপ্ত ছিটমহল

সদ্য বিলুপ্ত পঞ্চগড়ের ৩৬টি ছিটমহলের বাংলাদেশি নাগরিকরা বিজয় দিবস উদযাপনের ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছেন। বিজয় দিবসের প্রথম প্রহরে অস্থায়ীভাবে নির্মিত শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধার্পণ, বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন, দিনব্যাপী ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক আলোচনা সভা অন্যতম।

বাংলাদেশে যুক্ত নতুন এলাকাগুলোয় এখন সাজ সাজ রব পড়ে গেছে।  পঞ্চগড় জেলার সদর উপজেলার গাড়াতি এলাকায় ভিন্নধারার একটি বিজয় উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। অত্যন্ত জাকজমকপূর্ণ এই অনুষ্ঠানে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর,টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

বিলুপ্ত ছিটমহল নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি মফিজার রহমান জানান,সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়,গ্রামীণ ফোন ও একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেল (চ্যানেল আই) যৌথভাবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। প্রখ্যাত রবীন্দ্র সঙ্গীত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যারও উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

সদ্য বিলুপ্ত শালবাড়ি ছিটমহলের নাগরিক কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম জানান,শুধু গাড়াতিই নয় এবারই প্রথম অত্যন্ত জাকজমকপূর্ণভাবে শালবাড়ি, কাজলদিঘী, নাটকটোকা, বেহুলাডাঙ্গা, কোটভাজনি, দহলা খাগড়াবাড়িসহ পঞ্চগড়ের সদ্য বিলুপ্ত ৩৬টি বিলুপ্ত ছিটমহলেই মহান বিজয় দিবস উদযাপন করা হবে। এরইমধ্যে প্রতিটি ছিটমহলে অস্থায়ীভাবে নির্মিত শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হবে।

এদিকে,মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পঞ্চগড় সার্কিট হাউসে নতুন বাংলাদেশে উদযাপিত বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজকরা এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রীদের থাকার কথা রয়েছে।

উল্লেখ্য,গত ৬৮ বছরের বন্দি জীবনে বিলুপ্ত ছিটমহলের অধিবাসীরা বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য স্বাধীনতা দিবস,বিজয় দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করে আসছে। এবারই প্রথম তারা বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে বাংলাদেশের ভূ-খণ্ডে ভিন্ন মাত্রায় বিজয় দিবস উদযাপন করবেন।

/জেবি/এফএস/