সূত্র জানায়, নভেম্বর মাসে জামায়াত নেতা আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ ও বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ার পরই মানবতাবিরোধী অপরাধীদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের দাবি ওঠে।
এ প্রসঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রাষ্ট্র মানবতাবিরোধী অপরাধীদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে। তার নজিরও ইতিহাসে রয়েছে। আমাদের দেশেও এখন এ দাবি উঠেছে। তিনি বলেন, এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমরা দুই-একদিনের মধ্যেই আইন মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেব। তবে, আইনমন্ত্রণালয় যদি বলে প্রচলিত আইনে সম্ভব নয়, তাহলে নতুন আইন প্রণয়নের বিষয়ে উদ্যোগ নেব।
এ সম্পর্কে জানতে চাইলে আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধীদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা উচিত দুটি কারণে। প্রথমত নৈতিক কারণে, দ্বিতীয়ত এসব সম্পত্তি, টাকা-পয়সা সন্ত্রাসী কাজে ব্যয় হওয়ার কারণে। তিনি আরও বলেন, মানবতাবিরোধীদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে হলে নতুন আইন করতে হবে। অথবা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালস অ্যাক্ট-৭৩-এর আইনের মধ্যে একটা নতুন ধারা সংযোজন করতে হবে। যেখানে বলা হবে, যারা সাজা পেয়েছেন, তাদের সবার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হবে। তা নিয়োজিত হবে যুদ্ধের সময় যে সব পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের কল্যাণে, তাদের উত্তরাধীকারীদের কল্যাণে। এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এ আইন করলে তা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে না। কারণ, আমাদের সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদে বলা আছে এ বিষয়ে। এ আইনকে চ্যালেঞ্জই করা যাবে না, কারণ ৪৭ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, এ সব লোক আদালতে কোনও প্রতিকারের জন্যও যেতে পারবেন না, হাইকোর্টে রিট করতে পারবেন না কোনও ধরনের প্রতিকারের জন্য। সুতরাং, এ ধরনের আইন নিশ্চিন্তেই করা যেতে পারে। এটা করা উচিত। এমন নজির নুরেমবার্গ ট্রাইব্যুনাল, রুয়ান্ডা, যুগোস্লাভিয়ার আইনেও আছে।
সাবেক এই বিচারপতি আরও বলেন, মানবতাবিরোধীদের সব উপার্জন অবৈধ। একারণে এসব সম্পত্তি তাদের উত্তরাধিকারীরা ভোগ করবেন, এটা হতে পারে না। আরেকটি কথা, এসব উপার্জন ব্যয় করা হচ্ছে সন্ত্রাসী কার্যক্রমে এবং বিদেশে লবিস্ট নিয়োগের কাজে।
/এমএনএইচ/