একদিনের ব্যবধানেই বেগুন-শসার দাম দ্বিগুণ

হিলির একটি কাঁচাবাজাররমজান পড়তেই মাত্র একদিনের ব্যবধানে দিনাজপুরের হিলির কাঁচাবাজারে বেগুন ও শসার দাম দ্বিগুণ হারে বেড়েছে। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) যে বেগুন ও শসা ১৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে, একদিন পর শনিবার (২৫ এপ্রিল) তা ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। অন্য সবজির দামও কেজিতে ৫-১০ টাকা করে বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে আদার দাম; কেজিতে ৮০-১০০ টাকা। হঠাৎ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ।

শনিবার সরেজমিনে হিলির বাজারগুলো ঘুরে দেখা গেছে, একদিন আগেও প্রতি কেজি বেগুন ১৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও শনিবার তা বেড়ে বিক্রি হয়েছে ৩০ টাকা কেজি দরে। শসার দামও একই হারে বেড়েছে। করলা ৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও তা বেড়ে ১৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। পটল ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও তা কেজিতে পাঁচ টাকা বেড়ে ৩৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আদা কয়েকদিন আগেও ২শ' টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। কিন্তু তা এখন ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজ আগের মতোই ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে এবং রসুন একশ' টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।

লুৎফর রহমান ও খালেক হোসেন নামে দুজন ক্রেতা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে সবকিছু বন্ধ থাকায় আয় নেই। এমন অবস্থায় প্রতিটি জিনিসের দাম বাড়ছে। এতে করে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের নিত্য-পণ্য কিনতে গিয়ে বিপাকে পড়তে হচ্ছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশে রমজানে পণ্যের দাম কমলেও আমাদের দেশের পরিস্থিতি উল্টো। ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত মুনাফা করার প্রবণতা এর জন্য দায়ী। বাজারে কোনও ধরনের নিয়ন্ত্রণ নেই; যে যার মতো করে পণ্যের দাম বাড়াচ্ছেন। পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাজার ব্যবস্থা মনিটরিংয়ে সরকারের নজর দেওয়া উচিত।

হিলি বাজারের সবজি বিক্রেতা সাজ্জাদ হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, 'একদিনের ব্যবধানে বেগুন ও শসার দাম দ্বিগুণ হয়েছে। একইভাবে অন্য সবজিরও দাম বেড়েছে। রমজানে ইফতারির জন্য পণ্যের চাহিদা বাড়ায় এই অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।'

হিলি বাজারের ব্যবসায়ী শাকিল খান ও ফেরদৌস রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এই স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে আদা আমাদানি হতো; দিনাজপুরসহ উত্তরবঙ্গের চাহিদা মেটাতো। এছাড়া চট্টগ্রাম থেকেও আদা আসতো। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে গত ২৬ মার্চ থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি বন্ধ থাকায় আদা আমদানিও বন্ধ রয়েছে। একইভাবে অন্যান্য বন্দর দিয়েও আমদানি কমেছে। সেইসঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানে লকডাউন চলায় দেশীয় আদা উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলোতেও হাট ঠিকমতো বসছে না। তাই সরবরাহ কম থাকায় পণ্যটির দাম অনেক বেশি বেড়ে গেছে।