সাভারের অনেক পোশাক কারখানা চালু, একাধিক শিফটে ডিউটি

শ্রমিকদের মাঝে ফাঁকা রেখে কাজ করানো হচ্ছেকরোনা সংক্রমণ আতঙ্কের মধ্যেই সাভার ও আশুলিয়ার অনেক পোশাক কারখানা রবিবার (২৬ এপ্রিল) সকাল থেকে চালু করা হয়েছে। কারখানাগুলোতে করোনা প্রতিরোধে কর্মীদের মাঝে নিরাপদ দূরুত্ব বজায় রেখে কাজ করানো হচ্ছে। এজন্য একাধিক শিফটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আবার দূরত্ব নিশ্চিত না করে শুধু মাস্ক ব্যবহার ও হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করেই শ্রমিকদের কাজে যোগ দেওয়ানোরও অভিযোগ উঠেছে অনেক কারখানার বিরুদ্ধে। সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাই এলাকার বিভিন্ন কারখানা ঘুরে এবং শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে এসব জানা গেছে।

করোনা প্রতিরোধে গত ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত সাভার ও আশুলিয়ার অধিকাংশ কারখানা বন্ধ করে রাখা হয়। শনিবার বিকাল ও সন্ধ্যার পর থেকেই এই এলাকার অনেক কারখানা কর্তৃপক্ষ মোবাইল ফোন এবং ক্ষুদে বার্তার মাধ্যমে শ্রমিকদের কাজে যোগ দিতে বলে।

সাভারের কলমা এলাকার উইন্টার ড্রেস কারখানায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, থার্মোমিটার দিয়ে তাপমাত্রা পরীক্ষা করে সকালে শ্রমিকদের কারখানার ভেতরে ঢোকানো হয়। পরে হাত ধোয়া ও মাস্কের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। এছাড়া জীবাণুনাশক স্প্রে করা হয় কারখানার ভেতরে। দূরের শ্রমিকদের কাজে যোগ না দিতে বলে মালিকপক্ষ।

প্রবেশের সময় হাত ধোয়ার ব্যবস্থা একটি কারখানার প্রশাসনিক কর্মকর্তা কল্লোল জানান, তারা শ্রমিকদের তিন ফুট দূরত্ব বজায় রেখে ভেতরে কাজ করাচ্ছেন। ঝুঁকি এড়াতে দূরের শ্রমিকদের কারখানায় না এসে বাসায় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কারখানায় জীবাণুনাশক স্প্রে ছাড়াও শ্রমিকরা বাসায় গিয়ে কীভাবে নিরাপদ থাকবেন, সে বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

স্নোটেক্স কারখানার প্রোডাকশন ম্যানেজার বলেন, ‘সকাল থেকেই আশপাশে থাকা শ্রমিকদের কাজে যোগ দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। অনেক শ্রমিক  কারখানায় কাজে যোগ দিয়েছেন। স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী মাস্ক পরা, হাত ধোয়া ও স্প্রে করা হয়েছে।’ এছাড়া শ্রমিকরা যেন নিরপদ দূরত্ব বজায় রেখে কাজ করেন, সে বিষয়েও বিশেষ নজরদারি করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে, আশুলিয়ার ছয়তলা এলাকার স্টারলিং গ্রুপের কারখানায় সকালে শ্রমিকরা কাজে যোগ দিলেও দুপুরের দিকে ওই কারখানার ভেতরে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকার অভিযোগ তুলে প্রায় অর্ধেক শ্রমিক বের হয়ে যান। রফিকুল ইসলাম ও রুবেলসহ একাধিক শ্রমিক অভিযোগ করে বলেন, ‘কারখানার ভেতরে পর্যাপ্ত সুরক্ষার ব্যবস্থা ছাড়াই তাদের দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে। মাস্ক দেওয়া হচ্ছে, তবে তা অনেক পুরনো।’

জীবাণুনাশক স্প্রে করা হয়েছে বাংলাদেশ বস্ত্র ও পোশাক শিল্প শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সরোয়ার হোসেন বলেন, ‘আশুলিয়ার স্টারলিংসহ বেশ কিছু কারখানা সকাল থেকেই চালু করা হয়। তবে এসব কারখানায় শ্রমিকদের সুরক্ষার জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ কারণে স্টারলিং কারখানার অর্ধেক শ্রমিক কাজ না করে বের হয়ে যান।’ তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘অনেক কারখানা দায় এড়ানোর জন্য হাত ধোয়া ও শুধুমাত্র মাস্কের ব্যবস্থা করেছে। ভেতরে নিরাপদ দূরুত্ব বজায় না রেখে আগের মতোই শ্রমিকদের দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে। মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। এতে করে শ্রমিকদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।’ তিনি শ্রমিকদের পর্যাপ্ত সুরক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করে কারখানায় কাজ করানোর আহ্বান জানান।

এ ব্যাপারে ঢাকা-১ শিল্প পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার জানে আলম বলেন, ‘সকাল থেকে আশুলিয়া ও সাভারের বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করে রাখা হয়েছে। অনেক কারখানা নিরাপত্তার জন্য দুই শিফটের ব্যবস্থা নিয়েছে, যাতে শ্রমিকরা দূরত্ব বজায় রাখতে পারে।’ তবে কোথাও পর্যাপ্ত সুরক্ষার ব্যবস্থা না থাকলে পুলিশকে অবহিত করলে পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি সমাধানের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।