করোনা প্রতিরোধে গত ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত সাভার ও আশুলিয়ার অধিকাংশ কারখানা বন্ধ করে রাখা হয়। শনিবার বিকাল ও সন্ধ্যার পর থেকেই এই এলাকার অনেক কারখানা কর্তৃপক্ষ মোবাইল ফোন এবং ক্ষুদে বার্তার মাধ্যমে শ্রমিকদের কাজে যোগ দিতে বলে।
সাভারের কলমা এলাকার উইন্টার ড্রেস কারখানায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, থার্মোমিটার দিয়ে তাপমাত্রা পরীক্ষা করে সকালে শ্রমিকদের কারখানার ভেতরে ঢোকানো হয়। পরে হাত ধোয়া ও মাস্কের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। এছাড়া জীবাণুনাশক স্প্রে করা হয় কারখানার ভেতরে। দূরের শ্রমিকদের কাজে যোগ না দিতে বলে মালিকপক্ষ।
স্নোটেক্স কারখানার প্রোডাকশন ম্যানেজার বলেন, ‘সকাল থেকেই আশপাশে থাকা শ্রমিকদের কাজে যোগ দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। অনেক শ্রমিক কারখানায় কাজে যোগ দিয়েছেন। স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী মাস্ক পরা, হাত ধোয়া ও স্প্রে করা হয়েছে।’ এছাড়া শ্রমিকরা যেন নিরপদ দূরত্ব বজায় রেখে কাজ করেন, সে বিষয়েও বিশেষ নজরদারি করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে, আশুলিয়ার ছয়তলা এলাকার স্টারলিং গ্রুপের কারখানায় সকালে শ্রমিকরা কাজে যোগ দিলেও দুপুরের দিকে ওই কারখানার ভেতরে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকার অভিযোগ তুলে প্রায় অর্ধেক শ্রমিক বের হয়ে যান। রফিকুল ইসলাম ও রুবেলসহ একাধিক শ্রমিক অভিযোগ করে বলেন, ‘কারখানার ভেতরে পর্যাপ্ত সুরক্ষার ব্যবস্থা ছাড়াই তাদের দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে। মাস্ক দেওয়া হচ্ছে, তবে তা অনেক পুরনো।’
এ ব্যাপারে ঢাকা-১ শিল্প পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার জানে আলম বলেন, ‘সকাল থেকে আশুলিয়া ও সাভারের বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করে রাখা হয়েছে। অনেক কারখানা নিরাপত্তার জন্য দুই শিফটের ব্যবস্থা নিয়েছে, যাতে শ্রমিকরা দূরত্ব বজায় রাখতে পারে।’ তবে কোথাও পর্যাপ্ত সুরক্ষার ব্যবস্থা না থাকলে পুলিশকে অবহিত করলে পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি সমাধানের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।