জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সাতক্ষীরায় সর্দি-কাশি ও জ্বরসহ করোনা উপসর্গ নিয়ে ছয় জন মারা গেলেও তাদের চার জনের রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। শুক্রবার এবং শনিবার মারা যাওয়া দুজনের রিপোর্ট এখনও পাওয়া যায়নি। সাতক্ষীরা জেলা থেকে মোট ২৮৭ জনের নমুনা সংগ্রহ করে আইইডিসিআরে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ১৪১ জনের নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট ইতোমধ্যে সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে পৌঁছেছে। ৭৭টি রিপোর্টই নেগেটিভ এসেছে। বাকিদের রিপোর্ট এখনও পাওয়া যায়নি।
সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের পাশাপাশি জেলা পুলিশ বিভাগ সামাজিক দূরুত্ব বজায়ে রাখতে নিয়মিত টহল দিয়েছে। পোস্টারিং, মাইকিং, সীমান্তে কঠোর নজরদারি এবং ড্রোন ব্যবহার করে জনসমাগমের মাধ্যমে বিশৃঙ্খলাকারীদের খুঁজে বের করেছে। পাশাপাশি কয়েক হাজার অসহায় মানুষের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সামাজিক দূরুত্বকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে মাইকিং করে সচেতনতার পাশাপাশি আইন অমান্যকারীদের শাস্তি দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত ২০৬৬টি মামলায় ২০১৮ জন ব্যক্তি ও ৪৮টি প্রতিষ্ঠানকে ২০ লাখ ৭৪ হাজার ৫৮৭ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
ইতোমধ্যে ৮৪ হাজরা ৫০০ পরিবারকে সরকারি ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে এ পর্যন্ত সাতক্ষীরা জেলায় বরাদ্দ পাওয়া গেছে ১১০০ মে. টন চাল, নগদ ৫০ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং শিশু খাদ্যের জন্য ১০ লাখ টাকা।
এদিকে, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে জেলার প্রতিটি পৌরসভায় ওয়ার্ডভিত্তিক এবং ইউনিয়নভিত্তিক ভ্রাম্যমাণ বাজার চালু করা হয়েছে। ‘নো প্রফিট নো লস’ ধারণাকে সামনে নিয়ে বাজার থেকে কেনা মূল্যে বিক্রি করা হয় সব পণ্য। বর্তমানে প্রতিটি ওয়ার্ড ও ইউনিয়নে এ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়া জেলার প্রতিটি বাজারকে স্থানীয় মাঠ বা খোলা জায়গায় স্থানান্তর করা হয়েছে। জনসমাগম কমাতে জেলা প্রশাসনের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে চালু হয় এই ভ্রাম্যমাণ বাজার। শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রতিদিন একঘণ্টা করে অবস্থান করে এই বাজার।
করোনার প্রস্তুতির বিষয়ে সিভিল সার্জন হুসাইন শাফায়াত বলেন, ‘তিনটি অ্যাম্বুলেন্স, আটটি ভেন্টিলেশন, ২০ অক্সিজেন সিলিন্ডার এবং ২০টি নেবুলাইজার প্রস্তুত রয়েছে। সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালকে করোনা হাসপাতাল হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সেখানে ৫৪টি বিছানা প্রস্তুত রয়েছে।’