শাহ আলমের পর করোনা জয় করলেন কনস্টেবল হাবিব

রংপুরের শাহ আলম ও বগুড়ার আহসান হাবীবকরোনাভাইরাসের সঙ্গে যুদ্ধে জয়ী হয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কনস্টেবল এবং রংপুরের আদমদীঘির আহসান হাবিব। শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাতে বগুড়ার মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিট থেকে ছাড়পত্র পান তিনি। পরপর দু’বার তার রিপোর্ট নেগেটিভ আসায় তাকে ছুটি দেওয়া হয়। হাসপাতালটির আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. শফিক আমিন কাজল এসব তথ্য জানান। এর আগে শাহ আলম নামের একজন করোনা আক্রান্ত রোগী শজিমেক হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন।

আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, উপজেলার নশরতপুর ইউনিয়নের শাওইল কাঞ্চনপাড়া গ্রামের আহসান হাবিব (২৯) ডিএমপির কনস্টেবল। সর্দি, কাশি নিয়ে তিনি গত ১০ এপ্রিল মোটর সাইকেলে ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরেন। ১৩ এপ্রিল আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসেন। সেখানে চিকিৎসকদের সন্দেহ হলে তার শরীর থেকে করোনা পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহ করা হয়। ওই নমুনা রামেক হাসপাতাল ল্যাবে পাঠানো হয়েছিল। ১৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় সেখান থেকে আসা রিপোর্টে তাকে করোনাভাইরাস পজিটিভ উল্লেখ করা হয়।

এর পর জেলা প্রশাসক পুরো আদমদীঘি উপজেলাকে লকডাউন ঘোষণা করেন। পরে তাকে বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি করানো হয়। দুপচাঁচিয়া উপজেলার হাপুনিয়া গ্রামে শ্বশুর ফেরদৌস রহমানের বাড়িতে যাতায়াত করায় ওই বাড়িও লকডাউন করা হয়। পরে পরিবারের অন্য সদস্যদের নেগেটিভ রিপোর্ট এলেও তার নানা শ্বশুর করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন। তার শারীরিক অবস্থা উন্নতির দিকে।

বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এটিএম নুরুজ্জামান সঞ্চয় জানান, পুলিশ কনস্টেবল আহসান হাবিব সুস্থ হওয়ায় শনিবার তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। তার শরীরের অবস্থা ভালো রয়েছে। সুস্থ হওয়ায় আহসান হাবিব বগুড়া আইসোলেশনের চিকিৎসক, নার্সসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এর আগে গত ২৯ মার্চ বগুড়ার শিবগঞ্জের শাহ আলম (৫০) করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন। গত কয়েকদিনের চিকিৎসায় তিনিও সুস্থ হয়ে ওঠেন। প্রথম তিন দফা পরীক্ষায় তার শরীরে ভাইরাসের অস্তিত্ব ছিল। চতুর্থ ও পঞ্চম ধাপের পরীক্ষায় নেগেটিভ আসে। তার সংস্পর্শে আসা স্ত্রী সাজেদা বেগম, বগুড়া শজিমেক হাসপাতালের কয়েকজন চিকিৎসক, নার্স, কর্মচারী, অ্যাম্বুলেন্স চালক সবারই রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। শাহ আলম গত ২৪ এপ্রিল ছাড়পত্র নিয়ে বাড়িতে ফিরে গেছেন।

বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এটিএম নুরুজ্জামান সঞ্চয় জানান, বর্তমানে জেলায় মোট ১৫ জনের করোনাভাইরাস পজিটিভ রয়েছে। এর মধ্যে পজিটিভ পাঁচ জন আইসোলেশনে আছেন। উপসর্গ নিয়ে ভর্তি একজনের নমুনা পিসিআরে পাঠানো হয়েছে। রবিবার বিকাল পর্যন্ত রিপোর্ট আসেনি। করোনা পজিটিভ অন্যদের শরীরের অবস্থা ভালো হওয়ায় তারা নিজ নিজ বাড়ি ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আছেন।