পুলিশ সদস্যদের মধ্যে খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন আরসি-৯৫ এর সদস্যরাকরোনা সংক্রমণ রোধে রাজশাহীতেও চলছে লকডাউন। আর এই লকডাউন সময়ে সড়কে কাজ করে যাচ্ছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। তবে ডিউটিতে তাকা অবস্থায় পুলিশ সদস্যরা অনেক সময় বাড়ি কিংবা পুলিশ লাইন ও থানায় খাবারের জন্য যেতে পারেন না। আবার দোকানপাটও বন্ধ। এই দুঃসময়ে ডিউটে থাকা পুলিশ সদস্যদের ঘরে তৈরি খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন রাজশাহী কলেজের এইচএসসি-৯৪ ব্যাচের তিন শিক্ষার্থী।
রাজশাহী নগরীর পদ্মা আবাসিক এলাকার ব্যবসায়ী হাসিবুল আলম শাওন, ষষ্ঠীতলা এলাকার চাকরিজীবী কামাল হোসেন ও টিকাপাড়া এলাকার রাজশাহী সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষক রাসেল কবির এ দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের ‘আরসি-৯৪’ নামের একটি সংগঠনও রয়েছে।
পুলিশ সদস্যদের জন্য খাবার প্যাকেট করছেন আরসি-৯৫ এর সদস্যরাহাসিবুল আলম শাওন বলেন, আমরা গত ২ এপ্রিল থেকে ‘আরসি-৯৪’ সংগঠনের ব্যানারে রাজশাহী নগরীর দরিদ্র শ্রমজীবী ও নিম্নবিত্ত এক হাজার পরিবারের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করেছি। গত এক সপ্তাহ ধরে আমরা তিন বন্ধু মিলে পুলিশ সদস্যদের মধ্যে রাতে খাবার পৌঁছে দিচ্ছি। আমরা পুরো রমজানজুড়েই এ কাজটি করতে চাই। বর্তমান দুর্যোগ সময়ে সব হোটেল রেস্তোরাঁ বন্ধ। এ অবস্থায় রাতে পুলিশের ডিউটি শুরু হলেও তারা সকাল ১০টার আগে বাড়ি যেতে পারে না। দীর্ঘ সময় তাদের খেয়ে না খেয়ে কাটাতে হয়। বিষয়টি খুবই কষ্টের। তাই চেকপোস্ট ও টহলরত পুলিশের জন্য আমরা রাতে খাবার পৌঁছে দিয়ে থাকি।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা চেকপোস্টের এএসআই আতাউর বলেন, বাড়ি থেকে ইফতারের সময় খাবার নিয়ে আসি। কিন্তু অন্য সময় ইফতারের পরে রেস্টুরেন্ট থেকে খাবার খেয়ে নিতাম। তবে লকডাউনের কারণে দোকানপাট বন্ধ থাকায় তা সম্ভব হয় না। ফলে আরসি-৯৪ সংগঠনের সদস্যদের দেওয়া খাবার আমাদের প্রাণ বাঁচাচ্ছে। তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই।
পুলিশ সদস্যদের খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন আরসি-৯৫ এর সদস্যরানগরীর বোসপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই মনিরুল ইসলাম বলেন, টহল পুলিশকে রাত ৮টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত টানা ডিউটি করতে হয়। এসময়ে তিন জন যুবক আমাদের খাবার পৌঁচ্ছে দিচ্ছেন। এটা খুব ভালো উদ্যোগ।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার গোলাম রুহুল কুদ্দুস বলেন, চেকপোস্টের পুলিশরা রাতে টানা ৯ ঘণ্টা ডিউটি করেন। আর থানার টহল পুলিশদের রাতে টানা ১২ ঘণ্টা ডিউটি করতে হয়। এই সময়ের মধ্যে স্পট থেকে সরে যাওয়ার কোনও সুযোগ নেই। আবার অন্য সময় বাস টার্মিনাল এলাকায় খাবার রেস্টুরেন্টগুলো খোলা থাকতো। লকডাউনের কারণে সেগুলো বন্ধ রয়েছে। তাই কষ্ট করে পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। তবে এসময় অনেকেই ভালো মনে খাবার কিংবা সহযোগিতার জন্য এগিয়ে আসছেন। তবে তা যাচাই-বাছাই করে গ্রহণ করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।