১৪ বছর বয়সী শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সরোয়ার হোসেন বাচ্চুর মা রোকেয়া বেগম এভাবেই ছেলে হারানোর বেদনা কিছুটা প্রকাশ করলেন।
সমাদ্দারে টানা তিন দিন যুদ্ধের পর মাদারীপুর মুক্ত হয় ১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বর। ওইদিন যুদ্ধের এক পর্যায়ে সরোয়ার হোসেন বাচ্চু মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন। জেলার কনিষ্ঠ এই যোদ্ধার বয়স ছিল তখন মাত্র ১৪ বছর। মাদারীপুর নাজিমউদ্দিন কলেজ গেটে তাকে দাফন করা হয়। এমন অসংখ্য শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়েই অর্জিত এই স্বাধীনতা। আর বুকের ধন হারানোর বেদনা নিয়ে এখনও জ্বলে পুড়ে বেঁচে আছেন রোকেয়া বেগমের মতো স্বজনরা।
ছেলেহারা মা রোকেয়া বেগম বলেন, ‘শুনেছিলাম বাচ্চু যুদ্ধক্ষেত্রে বন্দুক-গ্রেনেড এগুলা চার্জ করে। তবে পাল্টা গুলিতে সেখানেই শেষ হয়ে যায়। ওরে বাড়িতে নিয়া আসলো। গায়ের মধ্যে কত ধূলাবালি। মাথার একপাশ দিয়া গুলি লাগছে, আর চোখের পাশ দিয়া বাইর হইয়া গেছে। ঘরের সামনে এনে রাখলো। আমার আরেকটা ছেলে হয়েছিল, তার বয়স তখন চার দিন। আমি তখন অনেক অসুস্থ ছিলাম। আমার কাঁদারও শক্তিও ছিল না। যারা ওরে মারছে সেই পাকিস্তানি দলরে শিকল বাইন্ধা নিয়া আইছিল মুক্তিযোদ্ধারা, শহরের রাস্তা দিয়া ঘুরাইছে।’
‘নাজিমউদ্দিন কলেজের সামনে আমার ছেলে বাচ্চুর কবর। এক সময় লোকজন দিয়া আমার ছেলের কবর ঠিকঠাক করাইছি। শেখ মুজিব নিজেই কবরের ভিত্তি স্থাপন করে দিয়ে গেছেন। এখন পর্যন্ত কোনও দলই কবরের কোনও তত্ত্বাবধান করে নাই। আমার অন্য কোন চাওয়া নেই। সন্তানের কবরটি যেন ঠিকমত রক্ষণাবেক্ষণ হয়।’
শহীদ বাচ্চুর কবরটি আছে মাদারীপুর-শরীয়তপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের সরকারি নাজিমউদ্দিন কলেজ গেটের সামনে। প্রতি বছর ১০ ডিসেম্বর তারিখে এখানে ফুল দিয়ে মুক্ত দিবসের অনুষ্ঠান শুরু হয়। এছাড়া শহীদ বাচ্চুর নামে মাদারীপুরে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও একটি সড়কের নামকরণ করা হয়েছে।
/এফএস/টিএন/