সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে মৌলভীবাজার জেলার বরুনা মাদ্রাসার মুহাদ্দিস আব্দুল মুমিতের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) ভোরে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার দেওপাশা গ্রামে নিহতের বাড়ির উঠানে দুই শতাধিক মুসল্লির উপস্থিতিতে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়। এসময় সবাই তিন ফুট দূরত্ব বজায় রেখে জানাজায় অংশ নেন।
জানা যায়, বরুনা মাদরাসার মুহাদ্দিস পদে দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন নিহত আব্দুল মুমিত। বহুদিন মাদ্রাসার দায়িত্বে থাকায় এলাকায় তার ভিন্নরকম একটি গ্রহণযোগ্যতা ছিল। অসংখ্য ছাত্রও আছে তার। এই কারণেই জানাজায় লোকসমাগমের সম্ভাবনা তৈরি হয়। কিন্তু র্যাব, পুলিশ ও প্রশাসনের কড়া নজরদারি ও সময়োচিত সিদ্ধান্তের কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির ছাড়াই লাশ দাফন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে মাথায় তীব্র যন্ত্রণা অনুভব করলে মুহাদ্দিস আব্দুল মুমিতকে দ্রুত সিলেটে মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে নিয়ে যান তার স্বজনরা। সেখানে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। সিলেট থেকে মৌলভীবাজারে লাশ আনার পর দাফনের পূর্বপর্যন্ত সারারাত ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে দাফন প্রক্রিয়ায় ভূমিকা পালন করেন র্যাব-৯, শ্রীমঙ্গল ক্যাম্পের কমান্ডার এএসপি মো. আনোয়ার হোসেন শামীম। ভোরে দাফন হওয়ায় সেহেরিও খেতে যেতে পারেননি তারা।
এ প্রসঙ্গে এএসপি আনোয়ার বলেন, 'আসলে ওই সময় বাসায় যেয়ে সেহেরি খাওয়ার মতো সময় ও পরিস্থিতি ছিল না। কারণ সিদ্ধান্ত হয়েছিল, ফজরের নামাজের পরপরই দাফন প্রক্রিয়া শেষ করে ফেলা হবে। যদি ওই মুহূর্তে আমরা সেহেরি খেতে আসতাম, এর মধ্যেই বিপুল জনতা জানাজায় উপস্থিত হয়ে যেতে পারতো এবং অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টির সম্ভাবনাও থাকতো।'