এবারের রাজপূন্যাহ মেলায় সরকারের দুই মন্ত্রী এ উৎসবে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। মেলাকে ঘিরে জেলার ১১টি আদিবাসী সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যমণ্ডিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। এ সময় বান্দরবান পাহাড়ি-বাঙালিদের মিলন মেলায় পরিণত হয়, দেশি- বিদেশি পর্যটকরা ভিড় জমায় এ পর্যটন শহরে। আদিবাসী সম্প্রদায়ের প্রবীণ নেতা হিসেবে রাজার আশীর্বাদ পাওয়ার জন্য দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে পাহাড়িরা রাজ দরবারে এসে ভিড় জমান।
বান্দরবানের বোমাং রাজা উ চ প্রু চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মেলায় হামলার আশঙ্কা করছি না। তবে মেলা সুষ্ঠ ভাবে সম্পন্ন করার জন্য সবার সচেতন থাকতে হবে।’
রাজপরিবার সূত্র জানায়, ব্রিটিশ শাসনামলে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলাকে তিনটি সার্কেলে বিভক্ত করে খাজনা আদায় করা হতো। ১৮৬৬ সাল পর্যন্ত চাকমা রাজা পার্বত্য এলাকা শাসন করতেন। ১৮৬৭ সালে কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ অঞ্চলের মারমা অধ্যুষিত এলাকাকে নিয়ে বোমাং সার্কেল, ১৮৭০ সালে রামগড় ও মাইনি উপত্যকার এলাকাকে নিয়ে মং সার্কেল গঠিত হয়।
আরও জানা যায়, বর্তমানে রাঙ্গামাটিকে চাকমা সার্কেল, বান্দরবানকে বোমাং সার্কেল এবং খাগড়াছড়িকে মং সার্কেল হিসাবে গণ্য করা হয়। প্রায় ১৭৬৪ বর্গমাইল এলাকার বান্দরবানের ৯৫টি, রাঙামাটির রাজস্থলি ও কাপ্তাই উপজেলার ১৪টি মৌজা নিয়ে বান্দরবান বোমাং সার্কেল।
বান্দরবান সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মেলায় হামলার কোনও আশঙ্কা নেই। নাশকতা যাতে না হয় সতর্কতার অংশ হিসাবে ক্যামেরা লাগানো হচ্ছে।’
প্রসঙ্গত, বান্দরবানের রাজপূন্যাহ মেলা উপলক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় বোমাং রাজাকে তিন লাখ টাকা দেয়।
/এফএস/