লকডাউনে বিপাকে মুরগির খামারিরা

খামারে মুরগিনীলফামারীতে করোনা সংক্রমণে পাইকারি বাজারে সব ধরনের মুরগি ও ডিমের দাম অস্বাভাবিকভাবে কমেছে। ক্রেতা কমে যাওয়ায় মুরগির ব্যবসায় ধস নেমেছে। জেলার ছয় উপজেলার এক হাজার ৫৬৬ জন খামারি বিপাকে রয়েছেন। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা যায়।

জেলা শহরের নিউবাবু পাড়ার মুরগিহাটি মহল্লার জীবন পোল্ট্রি ফার্মের মালিক জীবন মিয়া জানান, এক মাসের ব্যবধানে সব ধরনের মুরগির দাম প্রতি কেজিতে ৩০-৪০ টাকা এবং ডিমের দাম প্রতি হালিতে ১২ টাকা কমে গেছে। গত মার্চে ৩৬ টাকা প্রতি হালি ডিম বিক্রি হয়েছিল। অথচ এখন বিক্রি হচ্ছে ২৪ টাকায়। এছাড়া করোনা শুরুর আগে সোনালী মুরগি ২১০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছিল। এ জাতের মুরগি এখন ১৬০-১৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়াও ব্রয়লার মুরগি কেজি প্রতি ১৪০-১৫০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১২০ টাকায়। এতে প্রতি কেজিতে ৩০ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে।

জেলা সদরের রামনগর ইউনিয়নের চড়চড়াবাড়ী গ্রামের খামারি আফজালুল হক বিপ্লব জানান, রানীক্ষেত রোগ দেখা দেওয়ায় আমার খামারে প্রায় ১২ হাজার মুরগি পানির দামে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছি। এই বিপদ কেটে উঠতে না উঠতেই দেশজুড়ে আবার মহামারি আকারে দেখা দেয় করোনাভাইরাস। করোনা সংক্রমণ রোধে দেশে সব ধরনের যানবাহন বন্ধ থাকায় ডিম ও মুরগির বাজার নিম্নমুখী। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন খামারিরা।

জেলা প্রাণিসম্পাদ সূত্র জানায়, জেলায় এক হাজার ৫৬৬ মুরগির খামার রয়েছে। এর মধ্যে সোনালী মুরগির খামার রয়েছে ৪৬৭টি, লেয়ারের ৪৪৫টি, ব্রয়লারের ৫৭৮টি এবং দেশি মুরগির ৭৬টি খামার রয়েছে।

নীলফামারী পৌরসভার হাড়োয়া মহল্লার খামারি বাঁধন মিয়া জানান, দুই দফায় রাণীক্ষেত রোগে খামার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় গত মার্চে আবার এক হাজার সোনালী মুরগির বাচ্চা পালন শুরু করি। এ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে এগুলো বিক্রি করা যাবে বলে আশা করেন তিনি। কিন্তু করোনার প্রভাবে এতেও লোকসান গুনতে হবে বলে তিনি আশঙ্কা করেন। সরকারি প্রণোদনা পেলে এই লোকসান কাটিয়ে উঠবেন বলে আশা করেন তিনি।

পরিবেশক ইকবাল আহমেদ জানান, নানা কারণে খামারিরা বার বার ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। এতে খামারিদের সঙ্গে ডিলারদেরও ক্ষতি হচ্ছে। প্রাকৃতিক কারণে জেলায় শতকরা ৮০ ভাগ মুরগির খামার বন্ধের পথে। করোনার প্রভাবে বর্তমানে পোল্ট্রি শিল্পও মারাত্মক  ক্ষতির মুখে পড়েছে। খামারে মুরগির ডিম আসছে, কিন্তু বিক্রি হচ্ছে না। এসব মিলিয়ে খামারিরা বিপাকে পড়েছেন। সরকার ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করায় খামারিদের হয়তো কিছুটা উপকার হবে।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. মোনাক্কা আলী জানান, চলমান করোনা পরিস্থিতিতে সরবারহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় খামারিরা তাদের উৎপাদিত মুরগি ও ডিমের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ জন্য করোনা সংকটে সরকার খামারিদের বিশেষ প্রণোদনার ঘোষণা দিয়েছেন। উপজেলা পর্যায়ে খামারিদের তালিকা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আশা করি, দ্রুত তাদের সমস্যার সমাধান হবে।