ভিডিও বার্তায় সুস্থ হয়ে ওঠার অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করে নান্নুর রহমান খান বলেন, ‘আমি গত ১ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ থেকে চাঁদপুর আসি। এর দু’দিন পর আমার শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। আগেও আমার এরকম শ্বাসকষ্ট হতো। আর আমার মাও ছিলেন সিওপিডি রোগী। মাঝে মাঝে আমার শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে ওষুধ খেলে ভালো হয়ে যেত। কিন্তু এবার সহজে ভালো হচ্ছিল না দেখে আইইডিসিআরে যোগাযোগ করি। সেখান থেকে আমাকে চাঁদপুরের করোনা কন্ট্রোল রুমের একটি হটলাইন নম্বর দেয়। এখানে যোগাযোগ করার পর গত ৮ এপ্রিল আমার স্যাম্পল সংগ্রহ করে। ১২ এপ্রিল আমাকে জানানো হয় আমি করোনায় আক্রান্ত।
তিনি বলেন, ‘এরপর ডা. সাজেদা পলিন আমাকে ব্যবস্থাপত্র দিয়ে কিছু নিয়মকানুন মানার পরামর্শ দেন। ১৪ দিন আইসোলেশনে থাকার পরামর্শও দেন। সেই পরামর্শ অনুযায়ী আমি ওষুধ খেয়েছি। গরম পানি খেয়েছি, গরম পানির বাস্প নিয়েছি, লেবুর শরবত খেয়েছি এবং অন্যান্য স্বাভাবিক খাবার যেগুলো খাওয়ার উপযোগী মনে হতো তার সবই আমি খেতাম।
‘চিকিৎসা চলাকালীন ২০ এপ্রিল আমার আরেকটি নমুনা সংগ্রহ করে করার পর সেটির রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। এরপর আবার ২৬ এপ্রিল আরেকটি নমুনা সংগ্রহ করার পর সেটিও নেগেটিভ আসে। দু’বার নেগেটিভ রিপোর্ট পাওয়ার পরও আমাকে আরও কিছুদিন আইসোলেশনে থাকতে হয়েছে। এই পজিটিভ রিপোর্ট থেকে নেগেটিভ রিপোর্ট আসা এ পর্যন্ত আমি খুব ভালো আছি। আমার কোনও সমস্যা আপাতত নেই।
‘আমরা সবাই সচেতন হয় নিয়ম মেনে চললে ইনশাল্লাহ করোনা থেকে দূরে থাকতে পারবো। আপনারা রোগ হলে ভয়ে-লজ্জায় না লুকিয়ে ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন। এই টেস্ট করতে কোনও টাকা লাগে না। আপনি যেখানে আছেন সেখান থেকেই এসেই স্যাম্পল সংগ্রহ করে নিয়ে যাবে। আমাদের মেডিকেল টিমের ডাক্তাররা অনেক আন্তরিক।
এ বিষয়ে সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সাজেদা পলিন বলেন, ‘তিনি সচেতন থাকায় আমাদের ফোন করে তার সমস্যার কথা জানান। পরে তার রিপোর্ট পজিটিভ আসার পর তিনি বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। প্রথমে একটু ঝামেলা করছিলেন। পরে ইউএনও, পুলিশ, স্থানীয় চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় তাকে বাসায় থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করি। এর মধ্যে সিভিল সার্জন স্যারও আমাকে করণীয় সবকিছু করার নির্দেশনা দেন। তারপর করোনা চিকিৎসা যা যা দেওয়া দরকার সব কিছু দিই।’
তিনি বলেন, ‘মাঝে তিনি একটু অসুস্থ হয়েছিলেন। তার বুক জ্বালা-পোড়া করছিল। পরে আমাকে জানালে তাকে প্রেসক্রাইব করি। যখনই কোনও সমস্যা মনে করতেন তখনই আমি তাকে পরামর্শ দিতাম। পরবর্তীতে দু’বার তার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার পর রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। এরপর তিনি বাসা থেকে বের হতে চাইলেও তাকে আরও সাত দিন বাসায় থাকার নির্দেশনা দিই। এখন তিনি সুস্থ।’