আগামী ১০ মে থেকে দোকানপাট ও শপিং মল খোলার সরকারি ঘোষণায় দোটানায় পড়েছেন চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা। একপক্ষ সরকারের সিদ্ধান্তে দোকান খোলার পক্ষে থাকলেও অন্যপক্ষ বলছেন, এমন অবস্থায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা হলে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েরই সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
দোকান মালিক সমিতি চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি মোহাম্মদ সালামত আলী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, 'আমরা অধিকাংশ ব্যবসায়ীকে নিরুৎসাহিত করছি যাতে দোকান না খোলা হয়। অনেক ব্যবসায়ীও দোকান না খোলার পক্ষে। তবে কেউ কেউ দোকান খুলতে চাইছেন, আমরা তাদের বলেছি- তারা যাতে স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে দোকান খোলেন। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে যেন ক্রেতা-বিক্রেতা প্রবেশ ও বের হতে পারেন, সেরকম ব্যবস্থা করতে বলেছি।'
তবে নগরীর কয়েকটি শপিং মল ইতোমধ্যে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মার্কেটের ব্যবসায়ীরা। বৃহস্পতিবার নগরীর খুলশী কনকর্ড টাউন সেন্টার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় দোকান মালিক সমিতি ও ব্যবসায়ীরা। একই দিন নগরীর কোতোয়ালি থানার পুলিশ প্লাজা বন্ধ রাখারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সানমার ওশান সিটি, ফিনলে স্কয়ার, আফমি প্লাজাসহ আরও বেশ কয়েকটি শপিং মল বন্ধ রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
খুলশী কনকর্ড টাউন সেন্টার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সৈয়দ রুম্মান আহাম্মেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, 'বৃহস্পতিবার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের এক জরুরি সভায় সর্বসম্মতিক্রমে মার্কেট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। ঈদ পর্যন্ত খুলশি কনকর্ড টাউন সেন্টার বন্ধ থাকবে।'
ফিনলে স্কয়ার শপিং মলের সভাপতি আসাদ ইফতেখার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, 'মার্কেট খোলা না-খোলা নিয়ে আমরা মিটিংয়ে বসবো। সেখানে ব্যবসায়ীরা যে সিদ্ধান্ত দেবেন, তার ওপর দোকান খোলার বিষয়টি নির্ভর করবে। তবে অনেকে না খোলার পক্ষে।'
একই কথা জানিয়েছেন টেরিবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, 'সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কেট খোলার জন্য। কিন্তু আমাদের ব্যবসায়ীদের ৮০ ভাগই না খোলার পক্ষে। কারণ তাদের চিন্তাভাবনা হলো: আগে আমাদের বাঁচতে হবে, তারপর ব্যবসা। কেউ মরে যাওয়ার জন্য তো ব্যবসার মধ্যে আসবে না। তবে আমরা বলে দিয়েছি, যদি কেউ খোলে, তাহলে সরকারি বিধিনিষেধ মেনেই খুলতে হবে। এখন আমরা সরকারের পরবর্তী নির্দেশনার অপেক্ষায় আছি।'
অন্যদিকে দোকান খোলা হলেও বেচাকেনা নিয়ে সন্দিহান ব্যবসায়ীরা। তারা বলেছেন, 'দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ দিন দিন বাড়ছে। এমন অবস্থায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা হলে ক্রেতা সমাগম হবে কিনা— এ নিয়েও অনেকে সন্দিহান। দোকান খুললেও ক্রেতারা ঝুঁকি নিয়ে পোশাক কিনতে হয়তো আসবেন না। তাই দোকান খোলার পর বেচাকেনা না হলে লোকসান আরও বেড়ে যাবে।'
তবে দোকান খোলার পক্ষে তামাকুমণ্ডি বণিক সমিতি। সমিতির প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, 'ইতোমধ্যে ব্যবসায়ীরা অনেক লোকসানের মুখোমুখি হয়েছেন। তাই সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা মার্কেট খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যেসব ব্যবসায়ীর ইচ্ছা দোকান খুলবেন, যাদের ইচ্ছা নেই তারা খুলবেন না। কাউকে জোর করা হবে না। তবে যেসব দোকানদার দোকান খোলা রাখবেন, তাদের কর্মীদের নিরাপত্তার বিষয়টি তাদেরকেই বিবেচনা করতে হবে। আমরাও সমিতির পক্ষ থেকে ক্রেতা-বিক্রেতার সুরক্ষার জন্য যা প্রয়োজনীয়, সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।'
এ সম্পর্কে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাহবুবুল আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, 'আমরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলছি, অনেকে দোকান না খোলার পক্ষে। কেউ কেউ ক্ষতি কমিয়ে আনতে দোকান খোলার পক্ষেও মত দিচ্ছেন। পুলিশ কমিশনার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মিটিং করবেন। ব্যবসায়ীরা কী চান, তাদের মতামত জেনেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।