জেলায় জেলায় মার্কেট খোলার যে অবস্থা

টাঙ্গাইলে খুলবে সব মার্কেটস্বাস্থ্যবিধিসহ বিভিন্ন নির্দেশনা মেনে রবিবার (১০ মে) থেকে সারাদেশে সব ধরনের মার্কেট ও দোকানপাট খুলে দেওয়ার অনুমতি দিয়েছে সরকার। অনেক ব্যবসায়ী সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিচ্ছেন ঈদে দোকান চালু করার। অন্তত ২৩টি জেলায় রবিবার থেকে মার্কেট খুলে যাওয়ার তথ্য এসেছে। তবে করোনা পরিস্থিতির কথা চিন্তা করে কিছু কিছু জেলার মার্কেট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কয়েকটি জেলায় আরও কয়েকদিন পরিস্থিতি দেখে পরে মার্কেট খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ১৬টি জেলা থেকে সম্পূর্ণ বা অধিকাংশ মার্কেট বন্ধ রাখার খবর পাওয়া গেছে।  

সব মার্কেট খুলে দেওয়ার ঘোষণা যেসব জেলায়-

রাজশাহী
রাজশাহী ব্যবসায়ী সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার আলী জানান, অত্যাধুনিক নিউ মার্কেট সংলগ্ন থিম ওমর প্লাজা ছাড়া রাজশাহীর অন্য মার্কেটগুলো খোলা থাকবে। তবে শতভাগ সরকারি নির্দেশনা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকানপাট খোলা রাখা হবে। দোকানপাট খোলার পরে সরকারি নির্দেশনা ও স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে কিনা সেটাও তদারকি করা হবে। ব্যবসায়ী সমন্বয় পরিষদের উদ্যোগে বাজার মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে। কে নির্দেশনা মানছেন, আর কে মানছেন না তা দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মাদারীপুর

সরকার স্বাস্থ্যবিধি মেনে ১০ মে থেকে দোকান খোলার অনুমতি দিলেও এই জেলায় গত ৬ মে থেকেই সীমিতভাবে কিছু মার্কেট চালু করা হয়েছে। শহরের আমিন সুপার মার্কেট, মিয়া বঙ্গ মার্কেট, বড় মসজিদ মার্কেট ও নিউ মার্কেট জেলা প্রশাসনের বিশেষ অনুমতি সাপেক্ষে গত ৬ মে থেকে সকাল ৯টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত খোলা থাকছে। বাণিজ্যিক কেন্দ্র পুরানবাজারে প্রচণ্ড ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। মাদারীপুরে অনেক দোকানেই থান কাপড়ের সঙ্গে তৈরি পোশাকও বিক্রি হয়। এ কারণে এগুলো আগাম খোলার অনুমতি দেওয়া হয়।যশোরে সব মার্কেট খুলবে

বাগেরহাট

বাগেরহাট জেলা সদরসহ সব উপজেলা সদরের মার্কেট খুলবে। কোনও মার্কেট বন্ধ ঘোষণা করা হয়নি।

এছাড়া সরকারি নিয়ম অনুযায়ী মাছ, কাঁচা বাজার ও নিত্যপণ্যের বাজার সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকছে এবং ওষুধের দোকান স্বাভাবিক খোলা ছিল। এসব তথ্য জানিয়েছেন বাগেরহাট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি লেয়াকাত হোসেন লিটন।

বরিশাল

বরিশাল মহানগরীতে সব মার্কেট খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। 

নোয়াখালী

নোয়াখালী জেলার সব মার্কেট খুলবে, কোনও মার্কেট বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

মার্কেট খোলার প্রস্তুতি চলছে বিভিন্ন জেলায়

বগুড়া
এখন পর্যন্ত জেলার সব মার্কেট খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে লাকডাউনের মধ্যেও কোনও কোনও মার্কেটের কিছু দোকান খোলা ছিল।

যশোর
যশোরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সব দোকানপাট ও মার্কেট খোলা রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে কেউ চাইলে দোকান বন্ধ রাখতে পারবে।  বাজার ব্যবসায়ী কমিটির সভাপতি মীর মোশাররফ হোসেন বাবু জানান, শনিবার বেলা সাড়ে ৩টায় যশোর সার্কিট হাউজে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

নওগাঁ

জেলা চেম্বার অব কমার্স অ্যঅন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি ইকবাল শাহরিয়ার রাসেল জানিয়েছেন, শহরের দেওয়ান বাজার, গীতাঞ্জলি মার্কেট, শহিদ মতিউল ইসলাম পৌর মর্কেট, মসজিদ মার্কেট, বশাক শপিং কমপ্লেক্সসহ বেশিরভাগ মার্কেট রবিবার থেকে খুলবে।

টাঙ্গাইল

টাঙ্গাইলের মার্কেটগুলো আগামীকাল রবিবার স্বাস্থ্যবিধি মেনে আংশিকভাবে খোলা হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে যদি ব্যবসায়ীরা দোকান পরিচালনা করেন তাহলে পর্যায়ক্রমে সব মার্কেট খোলা হবে। বিষয়টি জানিয়েছেন টাঙ্গাইল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’র সভাপতি খান আহমেদ শুভ।





এদিকে শহরে আজ শনিবার দুপুরে বেশ কয়েকটি মার্কেট খুলে পরিষ্কার করতে দেখা গেছে। আগামীকাল মার্কেট খোলা হবে এজন্য পরিষ্কার করা হচ্ছে বলে ব্যবসায়ীরা জানান।মার্কেট খোলার প্রস্তুতি চলছে বিভিন্ন জেলায়

মানিকগঞ্জ

মানিকগঞ্জে সব দোকান পাট খুলবে। এখন পর্যন্ত কোনও দোকান বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়নি। করোনার মধ্যেও প্রশাসনের নজর এড়িয়ে শহরের শহীদ রফিক সড়কের পূর্ব দিকের উল্লেখ্যযোগ্য সংখ্যক দোকানপাট খোলা ছিল। মানিকগঞ্জ পোশাক শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি মিরাজ হোসেন ভোলা জানান, প্রশাসনের দেওয়া শর্ত মেনেই তারা দোকার খোলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

নাটোর

নাটোর শহরের মসজিদ মার্কেট, মন্দির মার্কেট, উত্তরা সুপার মার্কেট, কমলা সুপার মার্কেট, সাদেক কমপ্লেক্সসহ সব মার্কেট ১০ মে থেকে খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মার্কেট মালিক ও দোকানিরা। এছাড়া উপজেলা পর্যায়ের সব মার্কেটও খোলার প্রস্তুতি নিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। 

ভোলা

স্বাস্থ্যবিধি মেনে ভোলায় সব মার্কেট খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তবে কেউ নির্দেশ অমান্য করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

রাজবাড়ী

জেলায় সব ধরনের দোকানপাট খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজবাড়ী কাপড় বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. জাকির হোসেন জানান, সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে প্রয়োজনীয় সব নিয়ম-নীতি মেনে তারা ১০ মে থেকে সীমিত আকারে কাপড় বাজারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দীর্ঘ দিন তাদের ব্যবসা বন্ধ থাকায় অনেক লোকসান হয়েছে।

সাতক্ষীরা

আলি মার্কেট, আমিনিয়া সুপার মার্কেট, মুনিয়া প্লাজা, কোলাকাতা বাজার, মেহরুন প্লাজা, সাতক্ষীরা  সুপার মার্কেটসহ সব বিপণি বিতান রবিবার থেকে খুলবে। তবে করোনার মধ্যেও খোলা ছিল- আল বারাকা ব্রান্ড সিটি, চায়না বাংলা শপিং কমপ্লেক্স মার্কেট।

আল বারাকা ব্রান্ড সিটি সত্ত্বাধিকারী ও মার্কেট সমিতির সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান বলেন, আল বারাকা ব্রান্ড সিটির মুদিখানা চালু ছিল। সেখানে আমরা সামাজিক দূরত্ব মেনে বেচা-বিক্রি করেছি। আগামীকাল থেকে শপিং বিভাগ চালু হবে। তবে সরকার যে নির্দেশনা দিয়েছেন সেটা মেনে বেচা-বিক্রি হবে। ক্রেতা এবং বিক্রেতা উভয়ই মাস্ক ও গ্লাভস পরে থাকবেন।

সাতক্ষীরা জেলা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি নাসিম ফারুক খান মিঠু বলেন, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামীকাল ১০ থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত থেকে মার্কেট, বিপণি বিতান খোলা হবে।

চুয়াডাঙ্গা

বিগবাজার, নিউ মার্কেট, আব্দুল্লাহ সিটিসহ জেলার সবগুলো ছোট-বড় শপিং মল এবং দোকান-পাট খোলার পরিকল্পনা রয়েছে। চুয়াডাঙ্গায় এখনও পর্যন্ত কোনও মার্কেট বা দোকান বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়নি। চুয়াডাঙ্গা জেলা দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইবরুল হাসান জোয়ার্দ্দার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মুন্সীগঞ্জ

মুন্সীগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী কমিটির সভাপতি মো. আরিফ জানান, সকাল ১০টা থেকে ২টা পর্যন্ত সদর থানা থেকে কাচারি পর্যন্ত দোকানপাট খোলা থাকবে। তবে কোনও দোকান মালিক চাইলে তার দোকান বন্ধ রাখতে পারবেন। তবে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার আওতাধীন পৌর মার্কেটের দোকান বন্ধ থাকবে। যশোরে সব মার্কেট খুলে দেওয়া হবে

মাগুরা

মাগুরায় ১০ তারিখের আগেই খুলে গেছে  অনেক দোকানপাট। শহরের সুপার মার্কেট, রাজ কমপ্লেক্স, কাজি টাওয়ারের অধিকাংশ দোকান খোলা আাছে। তবে শহরের সবচেয়ে বড় মার্কেট বেবি প্লাজা ও নূরজাহান কমপ্লেক্স এখনও খোলেনি।
বেবি প্লাজার সত্বাধিকারী  রমেশ ভৌমিক বলেন, আমরা ১০ তারিখে পরিস্থিতি দেখে দোকান মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেবো।
মাগুরা চেম্বার অব কমার্স অ্যঅন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এর পরিচালক তানভির হাসান রেমন বলেন, এ বিষয়ে সিদ্ধান্তের জন্য ১০ তারিখ জেলা প্রশাসকের সঙ্গে ব্যবসাযী প্রতিনিধিদের একটি বৈঠক হবে। এরপরই সিদ্ধান্ত হবে।

পিরোজপুর

পিরোজপুরে রবিবার থেকে সব মার্কেট খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দুপুর ১২টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত কাপড়, টেইলার্স, গার্মেন্টস, কসমেটিকস, সোনা ও জুতার দোকান খোলা থাকবে বলে জানিয়েছেন জেলা ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা নকীব গোলাম।

রংপুর

বিভাগীয় শহর রংপুরের সব শপিং মল ও মার্কেট রবিবার থেকে খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। শনিবার বিকালে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আব্দুল আলীম মাহমুদের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রংপুর মেট্রোপলিটন চেম্বার সভাপতি রেজাউল ইসলাম মিলন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে প্রতিটি মার্কেটের প্রবেশ পথে হ্যান্ড স্যানিটাইজারসহ অন্যান্য সুরক্ষা সামগ্রীর ব্যবস্থা রাখতে হবে। সামাজিক দূরত্ব কোনও অবস্থাতেই লঙ্ঘন করা যাবে না। যে মার্কেট সরকারি নির্দেশনা মানবে না তাদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জরিমানাসহ অন্যান্য আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নড়াইল

জেলার বেশিরভাগ মার্কেটই রবিবার থেকে খুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতারা।

খাগড়াছড়ি

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রবিবার থেকে খাগড়াছড়িতে শপিংমল ও মার্কেট খোলার পক্ষে ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন করোনার কারণে প্রায় ৪২দিন বন্ধ থাকায় তারা অনেক ক্ষতির স্বীকার হয়েছেন। সামাজিক দূরুত্ব বজায় রেখে তারা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখতে চান। খাগড়াছড়ি বাজারের মিনি সুপার মার্কেট পরিচালনা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. নজির আহমেদ জানান, হাত ধোয়া, সামাজিক দূরত্ব ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহারের সুযোগ মার্কেটে রাখা হবে।রবিবার থেকে মার্কেট খুলবে

সিরাজগঞ্জ

রবিবার থেকে জেলার সব দোকানপাট খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পুলিশ সুপার কার্যালয়ের গোয়েন্দা (বিশেষ) শাখার ওসি মো. রেজাউল করিম বলেন, বণিক সমিতির নেতাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তারা সরকারি নির্দেশনা ও সামাজিক নিরাপত্তা মেনে দোকানপাট খুলবেন।

নীলফামারী

জেলার ছয় উপজেলায় সব বিপণি বিতান খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে। শনিবার (৯ মে) দুপুরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে স্থানীয় কর্মকর্তাদের জরুরি সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়। নীলফামারী চেম্বার অব কমার্সের সিনিয়র সহসভাপতি ফরহানুল হক জানান, সব ব্যবসায়ী করোনা মোকাবিলায় এক হয়ে শর্ত সাপেক্ষে মার্কেট খোলার ব্যাপারে মত দিয়েছেন।

নীলফামারীর পৌর সুপার মার্কেট, মকবুল হোসেন সুপার মার্কেট, এবাদত প্লাজা, মুরাদ আলী প্লাজা করোনার মধ্যেও ঢিলেঢালাভাবে খোলা ছিল।

 

মার্কেট বন্ধ থাকবে যেসব জেলায়-

ময়মনসিংহ

জেলায় শপিং সেন্টারসহ সব ধরনের দোকানপাট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতারা। জেলা চেম্বার অ্যান্ড কমার্স এর সিনিয়র সহ-সভাপতি শংকর সাহা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এছাড়া করোনার মধ্যেও মুদি দোকান, শিশু খাদ্য এবং বেকারি পণ্যের দোকান খোলা ছিল।

কুমিল্লা
স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়াতে কুমিল্লায় সব শপিংমল, শোরুম, মার্কেট ও বিপনী বিতান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দোকান মালিক সমিতি। এরমধ্যে সাত্তার খান কমপ্লেক্স, খন্দকার হক টাওয়ার, গোল্ডনে টাওয়ার, সুফিয়া ম্যানশন, রিয়াজ ম্যানশন, হোসনেয়ার ম্যানশন, হাজী প্লাজা, কুমিল্লা টাওয়ার শপিং কমপ্লেক্স, চৌরঙ্গী শপিং সেন্টার, ইন্টার্ন ইয়াকুব প্লাজা, টাউন হল সুপার মার্কেট, সিটি নিউ মার্কেট, বিবি সমতট এবং হকার্স ঈদ মেলাসহ ছোট-বড় সব মার্কেট বন্ধ থাকবে। এছাড়া আড়ং, এপেক্স, বাটাসহ বিভিন্ন নামীদামি ব্র্যান্ডের শোরুম ঈদ পর্যন্ত বন্ধ রাখার নির্দেশ রয়েছে। কুমিল্লা দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আতিক উল্লাহ খোকন এই তথ্য জানিয়ে বলেন, আগামীকাল রবিবার (১ মে) থেকে আমরা অভিযানে থাকবো। আইন অমান্য করলেই ওই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।গোপালগঞ্জে মার্কেট খোলা হবে না

চট্টগ্রাম

নগরীর প্রায় ৮০ শতাংশ শপিং মল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দোকান মালিক ও ব্যবসায়ীরা। বড় বড় শপিং মলগুলোর মধ্যে ইতোমধ্যে নগরীর প্রবর্তক মোড়ের মিমি সুপার মার্কেট, আফমি প্লাজা, দুই নম্বর গেইটের ফিনলে স্কয়ার, চিটাগাং শপিং কমপ্লেক্স, জিইসি মোড়ের সানমার ওশান সিটি, সেন্ট্রাল প্লাজা, খুলশী এলাকার কনকর্ড খুলশী টাউন সেন্টার, লালখান বাজার এলাকার আমিন সেন্টার, আগ্রাবাদ এলাকার লাকী প্লাজা, আক্তারুজ্জামান সেন্টার, সিঙ্গাপুর ব্যাংক মার্কেট, কল্লোল সুপার মার্কেট, নগরীর নিউ মার্কেট এলাকার বিপণি বিতান, রিয়াজউদ্দিন বাজার, আন্দরকিল্লা এলাকার কাপড়ের পাইকারি বাজার টেরিবাজার মার্কেট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে জিইসি মোড়ের ইউনোস্কো সেন্টার, কাজির দেউরি'র ভিআইপি টাওয়ার, চকবাজার এলাকার মতি টাওয়ার, গুলজার টাওয়ার, বসুমতি শপিং কমপ্লেক্স, চকভিউ সুপার মার্কেট,  অলংকার এলাকার অলংকার শপিং কমপ্লেক্স খোলা অথবা বন্ধ রাখার বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেননি ব্যবসায়ীরা। এসব মার্কেট খোলা নিয়ে ব্যবসায়ীরা দোটানায় রয়েছেন। রাঙামাটিতে অধিকাংশ মার্কেট খুলবে না

রাঙামাটি

রাঙামাটির বৃহত্তর বাণিজ্যিক কেন্দ্র বনরূপার সব মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতারা। শনিবার দুপুরে বৃহত্তম বনরূপা ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি কার্যালয়ে এক জরুরি সভা শেষে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। আগামী ৩০ মে পর্যন্ত সব সব মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়।




তবে শহরের রিজার্ভ বাজার ও তবলছড়ি মার্কেট বন্ধ রাখার ব্যাপারে ব্যবসায়ীরা এখনও সিদ্ধান্ত নেননি। রিজার্ভ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. বানু মিয়া বলেন, সরকার খোলা রাখার ব্যাপারে জানিয়েছে, তবে কিছু ব্যবসায়ী এটার পক্ষে আবার কিছু ব্যবসায়ী বন্ধ রাখার পক্ষে। আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়ে সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হবে।
অন্যদিকে, তবলছড়ি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. জহির উদ্দিন বলেন, সরকার যে সময়ের জন্য খোলা রাখার কথা বলছেন সেই সময় খোলা রাখা বন্ধ রাখা সমান কথা। তাও কেউ যদি সরকারে নির্দেশনা মোতাবেক খোলা রাখে সেটা তার নিজ দায়িত্বে খুলবেন।গোপালগঞ্জে মার্কেট খোলা হবে না

জামালপুর

করোনার প্রকোপ বৃদ্ধির কারণে ঈদের সময় জেলার সব মার্কেট বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি, জামালপুর জেলা শাখা। শনিবার দুপুরে জামালপুর জেলা দোকান মালিক সমিতির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি, জামালপুর জেলা শাখার সভাপতি মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী জানান, জেলার ৪৩টি সমিতির ১২ হাজার দোকান রয়েছে। করোনার প্রভাব শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা শহর এবং উপজেলা পর্যায়ের কোনও মার্কেট ও দোকান খোলা রাখবেন না। যদি কোনও দোকান মালিক সংগঠনের সিদ্ধান্ত না মেনে দোকান খোলা রাখেন তবে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।জামালপুরে মার্কেট খোলা হবে না

সিলেট

সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠকের পর ব্যবসায়ী নেতারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক  না হওয়া পর্যন্ত তারা মার্কেট খুলবেন না। 

সুনামগঞ্জ

সুনামগঞ্জে দোকানপাট ও শপিং কমপ্লেক্সগুলো আগামী ১৫ মে পর্যন্ত বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন সুনামগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স ও জেলা ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা। আজ শনিবার (৯ মে) দুপুরে শহরের স্টেশন রোড এলাকায় চেম্বার ভবনে সুনামগঞ্জ চেম্বার ও জেলা ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা বৈঠক করে এ সিদ্ধান্ত নেন।

খুলনা

খুলনা শপিং মল, নিউ মার্কেটসহ খুলনার প্রতিষ্ঠিত মার্কেটগুলোর ব্যবসায়ীরা দ্বিধা দ্বন্দ্বের মধ্যে আছেন মার্কেট খোলা নিয়ে। খুলনা চেম্বার থেকে দোকানগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি মানতে পারলে খুলতে বলা হয়েছে। না হলে বন্ধ রাখতে বলেছে। আর খোলার পর স্বাস্থ্যবিধি মানা না হলে মার্কেট বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের মার্কেট না খোলার জন্য খুলনা চেম্বার থেকে আহ্বান জানানো হয়েছে। 

তবে করোনার মধ্যেও খোলা ছিল- বড় বাজার, দৌলতপুর বাজার, কিছু ছোট ছোট কাপড় ও পোশাকের দোকান ও সেইভ অ্যান্ড সেইফসহ কিছু শপিং সেন্টার।

কক্সবাজার

সরকার ১০ মে দোকান খোলার ঘোষণা দিলেও  করোনা পরিস্থিতিতে আত্মরক্ষায়  আগামী ১৬ মে পর্যন্ত সব ধরণের দোকানপাট বন্ধ রাখতে একমত হয়েছেন কক্সবাজারের ব্যবসায়ীরা। একই সঙ্গে দোকান ভাড়া মওকুফের ব্যাপারে মার্কেট মালিকদের সঙ্গে আলাপ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।  শনিবার (৯ মে) বিকাল ৩টার দিকে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি কক্সবাজার জেলা শাখার জরুরি সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। 

এতে আরও বলা হয় নির্দেশনা অমান্য করে যারা দোকান খোলবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্যবসায়ীরা। 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ব্যবসায়ীরা সব মার্কেট ও দোকানপাট আগের মতোই বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।  শুক্রবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদ সম্মেলন করে এমন সিদ্ধান্তের কথা জানান তারা। গত ২৬ মার্চ থেকে সব মার্কেট বন্ধ আছে এই জেলায়।
ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাষ্টির সভাপতি আজিজুল হক জানান, বর্তমান করোনার ঝুঁকিতে জনসাধারণ এবং ব্যবসায়ীদের নিজেদের সুস্থতার কথা বিবেচনা করেই আমরা আমাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আগের মতোই বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ঈদের আগে আর দোকান পাট বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলছে না।

হবিগঞ্জ

হবিগঞ্জের শপিং মলগুলো আগামী ২৫ মে পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আজ শনিবার বিকালে হবিগঞ্জের ব্যবসায়ী, চেম্বার ও স্থানীয় এমপিকে সঙ্গে নিয়ে প্রশাসনের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হবিগঞ্জ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি শামসুল হুদা।

গোপালগঞ্জ

গোপালগঞ্জ জেলা সদরের কোনও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানই না খোলার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন  গোপালগঞ্জ চেম্বারের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. মোশাররফ হোসেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাঁচামাল ও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দোকান খোলা থাকবে।নরসিংদীতে মার্কেট খুলবে না

নরসিংদী

শহরের সব দোকানপাট ও মার্কেট বন্ধ রয়েছে। ঈদকে ঘিরে সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক আগামীকাল ১০ মে থেকে খোলার সিদ্ধান্ত হওয়ার পর আজ ৯ মে শনিবার বিকালে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে নরসিংদী বাজারের ব্যবসায়ী নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ব্যবসায়ীদের ১১টি শর্ত দেওয়া হয়েছে। এই ১১ শর্ত মেনে দোকান খোলা সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছেন নরসিংদী বাজার বণিক সমিতির সভাপতি বাবুল সরকার। তবে তিনি বলেছেন, কোনও ব্যবসায়ী যদি  ১১ শর্ত মেনে দোকান চালু করতে পারেন সেটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার। পুরোদমে দোকান খোলা বা বন্ধ রাখার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনও সুরাহা হয়নি।

চাঁদপুর

পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত চাঁদপুর রেলওয়ে হকার্স মার্কেট বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন মৃধা। এছাড়া চাঁদপুর শহরের অন্যান্য মার্কেটও বন্ধ ঘোষণার সিদ্ধান্ত আসতে পারে। তবে চাঁদপুর জেলা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোস্তাক হায়দার চৌধুরী জানিয়েছেন, রবিবার সকালে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

মৌলভীবাজার

ঈদুল ফিতর পর্যন্ত মৌলভীবাজার সব মার্কেট বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন মৌলভীবাজার জেলা বিজনেস ফোরামের সভাপতি মো. নুরুল ইসলাম কামরান। শনিবার বিকালে তিনি এই তথ্য জানান।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

জেলার চেম্বার অব কর্মাস অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রির সভাপতি এরফান আলী জানিয়েছেন, করোনা পরিস্থিতির দিন দিন অবনতি হওয়ায় এবং কেনাকাটার মাধ্যমে এই ভাইরাসের ব্যাপক সামাজিক সংক্রমণ প্রতিরোধে আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় কোনও মার্কেট ও শপিং মল খোলা হবে না। শুক্রবার (৮ মে) বিকালে জেলার বিভিন্ন মার্কেট ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে জেলা চেম্বারের এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।’
তিনি জানান, গত ২৫ মার্চ থেকে জেলার সব মার্কেট বন্ধ। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সব মার্কেট ও শপিং মল বন্ধ থাকবে।

আরও পড়ুন- রাজধানীর যেসব শপিংমল খুলছে কাল