করোনা পরিস্থিতিতে দেশের বেশিরভাগ হাসপাতালই অনেকটা রোগীশূন্য অবস্থায় রয়েছে। তবে কাগজে-কলমে এর ব্যতিক্রম চিত্র দেখা গেছে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। হাসপাতালটির আবাসিক চিকিৎসকের মাধ্যমে তৈরি হওয়া গত কয়েকদিনের খাবার তালিকায় ৫০ শয্যার হাসপাতালটিতে ৫০ জন রোগীকেই ভর্তি দেখানো হয়েছে। যেখানে ওই সময়ের রেজিস্ট্রার অনুযায়ী ১৮ জন রোগী ভর্তির তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযোগ উঠেছে খাবার তালিকায় রোগীর সংখ্যা দেখিয়ে হাসপাতালের স্টাফ ও খাবার সরবরাহের ঠিকাদারের মধ্যে ওঠানো বিলের টাকা ভাগ-বাটোয়ারা হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, প্রতিদিন আবাসিক রোগীদের বিপরীতে ২১০ টাকার ডায়েট দেওয়ার কথা রয়েছে। সে অনুযায়ী প্রতিদিন ৫০ রোগীর বিপরীতে বিল আসে ১০ হাজার ৫০০ টাকা। আর এ হিসাব প্রতিদিন দেখানো হলে ৩০ দিনে তিন লাখ টাকার বেশি বিল করা সম্ভব।
তবে হাসপাতালের রেজিস্ট্রার অনুযায়ী সাভার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এপ্রিলের শেষ ১০ দিন তেমন কোনও রোগী ভর্তি না হলেও আবাসিক বিভাগের রোগীদের খাবার সরবরাহের তালিকায় শেষ সপ্তাহের কয়েকদিনে প্রতিদিন ৫০ জন করে রোগী ভর্তি দেখানো হয়েছে। কিন্তু, ওই সময়ের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া মোট রোগীর সংখ্যা দেখা গেছে মাত্র ১৮ জন। গড়ে প্রতিদিন তিন থেকে চার জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের অনেকে আবার চিকিৎসা নিয়ে চলেও গেছেন।
তবে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. সায়েমুল হুদা বলেন, হাসপাতালের কোনও কর্মকর্তা বা স্টাফ অসুস্থ হলে তাকে জরুরি বিভাগে ভর্তি হতে হবে। এরপরই তিনি খাবার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবেন।
ওই তালিকায় তার নাম থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে সায়েমুল হুদা বলেন, আমি হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম, কোয়ারেন্টিনে ছিলাম। হাসপাতালের অনেক স্টাফও কোয়ারেন্টিনে ছিলেন, সে কারণে তাদের নামও সেখানে থাকতে পারে। তবে যেকোনও রোগী জরুরি বিভাগে চিকিৎসকের মাধ্যমে ভর্তি হওয়ার পরেই খাবারের তালিকায় তাকে কাউন্ট করা হবে।
অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রোগীদের খাবার সরবরাহে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অনিয়ম করে আসলেও কখনও এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বরং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় অনিয়ম করে আসছে খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান। কেননা, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা ছাড়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে রোগীদের ভুয়া তালিকা তৈরি করা সম্ভব নয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা জেলার সিভিল সার্জন ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান বলেন, ‘খাবার বিলের তালিকা নিয়ে এমনটি হয়ে থাকলে তা অবশ্যই অনিয়ম।’ বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন তিনি।