সাংবাদিক ফখরে আলম আর নেই

সাংবাদিক ফখরে আলমপ্রথিতযশা সাংবাদিক ফখরে আলম (৫৯) ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকালে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা জানান, তিনি হাসপাতালে আনার আগেই মারা গেছেন। যশোর প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ফখরে আলম বৃদ্ধা মা, স্ত্রী, দুই ছেলে-মেয়েসহ অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন।

দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে ভুগছিলেন ফখরে আলম। ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার পর একপর্যায়ে তিনি চোখের দৃষ্টিশক্তি হারান। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতের বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নেন তিনি।

ফখরে আলম সর্বশেষ দৈনিক কালের কণ্ঠের বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। এর আগে তিনি ১৯৮৫ সালে সাপ্তাহিক রোববারের মাধ্যমে সাংবাদিকতা শুরু করেন। পরে তিনি আজকের কাগজ, মানবজমিন, জনকণ্ঠ, আমাদের সময়, যায়যায় দিন, ভোরের কাগজ, বাংলা বাজার পত্রিকায় কাজ করেছেন।

সাংবাদিকতা জীবনে তিনি মোনাজাত উদ্দিন স্মৃতি পুরস্কার, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের বজলুর রহমান স্মৃতিপদক, এফপিএবি পুরস্কার, মধুসূদন একাডেমি পুরস্কার, এফইজেবি পুরস্কার, টিআইবির অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা পুরস্কারসহ নানা পদক, পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন।

কবি হিসেবেও ফখরে আলমের ব্যাপক পরিচিতি ছিল। এক সময় যশোর সাহিত্য পরিষদেও সক্রিয় ছিলেন তিনি।
কবিতা, সাংবাদিকতা, মুক্তিযুদ্ধ প্রভৃতি বিষয়ে ফখরে আলম ৩৪টি বই লিখেছেন। তার মধ্যে ‘রিপোর্টারের ডায়েরি’, ‘হাতের মুঠোয় সাংবাদিকতা’, ‘ডাকে প্রেম তুষার চুম্বন’, ‘যশোরের গণহত্যা’, ‘তুই কনেরে পাতাসী’, ‘খুলে ফেলি নক্ষত্রের ছিপি’, ‘এ আমায় কনে নিয়ে আলি’, ‘অন্ধকার চুর্ণ করি’ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।

১৯৬১ সালের ২১ জুন জন্ম গ্রহণ করেন ফখরে আলম। যশোর শহরতলীর চাঁচড়া এলাকার বাসিন্দা তার বাবা মরহুম শামসুল হুদা ছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, যশোর জিলা স্কুল মাঠে জানাজা শেষে শহরের চাঁচড়ার পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হবে। এর আগে তার মরেদহ যশোর প্রেস ক্লাবের সামনে নেওয়া হয়। যশোরের বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে তাকে শ্রদ্ধা জানানো হয় এবং তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করা হয়।