লালমনিরহাটে ভুয়া এনএসআই কর্মকর্তাসহ ২ জন আটক

20200514_154558লালমনিরহাটে ভুয়া এনএসআই কর্মকর্তাসহ ২ যুবককে আটক করা হয়েছে। ইসলামিক ফাউণ্ডেশনের উপপরিচালকের কাছে এনএসআইয়ের সহকারী পরিচালক পরিচয়ে আরিফুল ইসলাম সুজন (৩৩) ও সাংবাদিক পরিচয়ে খাজা রাশেদ বাবু (২৬) নামে দুই ব্যক্তি চাঁদা দাবি করলে তাদের হাতেনাতে আটক করে সদর থানা পুলিশ।

লালমনিরহাট থানা সূত্রে জানা গেছে, আটক সুজন লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার সাপ্টিবাড়ী ইউনিয়নের খাতাপাড়া এলাকার আতিয়ার রহমানের ছেলে ও খাজা রাশেদ বাবু লালমনিরহাট পৌরসভার সাহেপাড়া এলাকার নুরুল হকের ছেলে।        

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে লালমনিরহাট জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় এই ঘটনা ঘটে। ওই ডাকবাংলোয় লালমনিরহাট ইসলামিক ফাউণ্ডেশনের উপপরিচালক(ডিডি) ওমর ইবনে হাসান ভাড়া থাকেন। সেখানে এনএসআইয়ের ভুয়া সহকারী পরিচালক আরিফুল ইসলাম সুজন (৩৩), স্থানীয় একটি সাপ্তাহিক পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার খাজা রাশেদ বাবুসহ ৫/৬ জন দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে।

ড. ওমর ইবনে হাসান বলেন, বৃহস্পতিবার জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় তার কক্ষে এনএসআইয়ের সহকারী পরিচালক পরিচয় দিয়ে আরিফুল ইসলাম সুজন, সাংবাদিক পরিচয়ে খাজা রাশেদ বাবু ও র‍্যাবের পরিচয়ে পারভেজ চাঁদা দাবি করেন।

তিনি তাৎক্ষনিক জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে বিষয়টি জানান। এরপরেই সদর থানার পুলিশ এসে সুজন ও রাশেদকে আটক করে নিয়ে যায়। এসময় পারভেজ পালিয়ে যান।

লালমনিরহাট সদর থানার ওসি মাহফুজ আলম জানান, আটক আরিফুল ইসলাম সুজনের নিকট থেকে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার সহকারী পরিচালক পদবী লেখা একটি ভুয়া পরিচয়পত্র ও স্থানীয় সাপ্তাহিক নতুন বাংলার সংবাদ পত্রিকার লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি পদবী লেখা একটি পরিচয়পত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া খাজা রাশেদ বাবুর নিকট থেকে স্থানীয় ডেইলি নববিজয় অনলাইনের স্টাফ রিপোর্টার ও বিজ্ঞাপন ম্যানেজার লেখা একটি পরিচয়পত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

লালমনিরহাটের উপপরিচালক (এনএসআই) আব্দুস ছাত্তার বলেন, পুলিশের হাতে আটক আরিফুল ইসলাম সুজন এনএসআইয়ের ভুয়া পরিচয়পত্র বহনকারী একজন। এই নামে আমাদের কেউ নেই। বিষয়টি পুলিশকে নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভুয়া পরিচয়পত্র ইস্যু ও ব্যবহারের কারণে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করা হয়েছে।     

এ প্রসঙ্গে ডেইলি নববিজয় অনলাইন এবং সাপ্তাহিক নতুন বাংলার সংবাদ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক আসাদুল ইসলাম সবুজের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।