সুপার সাইক্লোন ঘূর্ণিঝড় আম্পান বুধবার যে কোনও সময় সাতক্ষীরার উপকূলে আঘাত হানতে পারে। তবে সাতক্ষীরার অধিকাংশ মাঠের ধান কাটা শেষ হওয়ায় এর প্রভাব ধানের ওপর পড়বে না। জেলার শতকরা ৯৬ ভাগ ধান কাটা শেষে কৃষকের ঘরে উঠে গেছে বলে কৃষি অফিস জানিয়েছে।
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে ৮০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও সাতক্ষীরার ৭টি উপজেলায় ৭৫ হাজার৫০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে সাড়ে ৪ হাজার হেক্টর কম জমিতে আবাদ হলেও ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে।
সূত্রে আরও জানা গেছে, জেলার শতকরা ৯৬ ভাগ ধান কর্তন শেষে কৃষকের ঘরে উঠে গেছে। বাকি ৪ভাগ ধান কাটা হলেও হঠাৎ বৃষ্টির কারণে মাঠে থেকে গেছে।
সাতক্ষীরা শহরের রাজার বাগান এলাকার কৃষক আবুল হোসেন বলেন, ‘চলতি মৌসুমে আমি ১২বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছি। করোনার কারণে প্রথম দিকে শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের খবর পেয়ে বেশি শ্রমিক কাজে লাগিয়ে দ্রুত ধান কর্তন করে ঘরে তুলে ফেলেছি। তবে এর আগে দুই দিনের বৃষ্টিতে কর্তন করা কিছু ধান নষ্ট হয়েছে। আমাদের মাঠের অধিকাংশ কৃষকের ধান ঘরে উঠে গেছে। ঘূর্ণিঝড় আম্পানে খুব বেশি ক্ষতি হবে না। কিছু এলাকায় ধান দেরিতে শুরু করেছিলে তাদের ধান কাটতে বাকি আছে।’
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রাসরণ অধিদফতরের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক নুরুল ইসলাম বলেন, ‘চলতি বোরো মৌসুমে সাতক্ষীরায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম জমিতে ধানের চাষ হলেও এবার ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। জেলার ৭টি উপজেলায় ৭৫ হাজার৫০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। সরিষার আবাদ দেরিতে হওয়ায় অনেকে চাষী বোরোর আবাদ করতে পারেননি সে কারণে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কিছুটা কম আবাদ হয়েছে। জেলার শতকরা ৯৬ ভাগ ধান মাঠ থেকে কৃষকের ঘরে উঠে গেছে। আম্পানে আমাদের জেলায় ধানের ক্ষতি হবে না। কলারোয়া উপজেলার কিছু কিছু মাঠে ধান তুলতে বাকি আছে। তবে তাদের দ্রুত ধান তুলে নিতে বলেছি।