টানা ৮০ দিন পর দেশের তৃতীয় বৃহত্তম স্থলবন্দর বুড়িমারী দিয়ে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম আজ বুধবার (১০ জুন) শুরু হয়েছে।
সকাল ১০টায় ভারতীয় পাথর বোঝাই তিনটি ট্রাক বুড়িমারী স্থলবন্দর কাস্টমস হয়ে স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের ইয়ার্ডে প্রবেশ করে।
এর আগে গত সোমবার দুপুরে ভারত-বাংলাদেশের ব্যবসায়ী এবং কর্মকর্তাদের মধ্যে বুড়িমারী স্থলবন্দর জিরো পয়েন্টে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য চালু করা সংক্রান্ত এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বুড়িমারী কাস্টমস ও স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্র জানায়, করোনাভাইরাসের কারণে গত ২২ মার্চ থেকে ৯ জুন পর্যন্ত টানা ২ মাস ২০ দিন আমদানি-রফতানি কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ভারতের চ্যাংড়াবান্ধা, ভুটানের ফুলসিলিং ও বাংলাদেশের বুড়িমারী স্থলবন্দরে হাজার হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়ে। অন্যদিকে সরকারও বিপুল পরিমাণে রাজস্ব আহরণ থেকে বঞ্চিত হয়।
বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি কারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ব্যবসায়ী শামীম হোসেন বলেন, গত ২২ মার্চ থেকে আমাদের ব্যবসা সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। এতে সবাই আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আশাকরি সরকারের নির্দেশনা মেনে করোনাভাইরাস জয় করে আগের মতোই আমদানি-রফতানি কার্যক্রম চলবে। তবে ব্যবসায়ী, কর্মকর্তা ও কর্মচারী সকলকে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজ করতে হবে। আমরা সেদিকে সচেষ্ট আছি।
একই কথা বলেন আমদানিকারক তরুণ ব্যবসায়ী তারেক ইসলাম রাশেদসহ অনেকে।
বুড়িমারী স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক (ডিডি) মো. মাহফুজুল ইসলাম ভুঁইঞা আশা প্রকাশ করে বলেন, আমদানি-রফতানি কার্যক্রম শুরু হওয়ায় আবার আগের মতোই কর্মমুখর হয়ে উঠবে বুড়িমারী স্থলবন্দর। আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে পণ্য খালাস ও অফিসিয়াল কার্যক্রম শুরু করেছি। যাতে করোনাভাইরাস সংক্রমণ না হয় সেজন্য সবাইকে সচেতন হতে হবে ও বিধি নিষেধ মেনে চলতে হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রতিদিন বিকাল ৩টা পর্যন্ত আমদানি-রফতানি কার্যক্রম চলবে। প্রতিদিনের গাড়ি থেকে প্রতিদিনই পণ্য খালাস করে নিজ দেশে ফেরত যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সকালে বাংলাদেশি পণ্যবোঝাই গাড়ি ভারতে গেছে। আবার ভারত ও ভুটান থেকে পণ্য বোঝাই গাড়ি বুড়িমারীতে প্রবেশ করেছে। প্রত্যেকটি ট্রাক জীবানুনাশক ছিটিয়ে এরপর রিসিভ করা হচ্ছে।
বুড়িমারী স্থলবন্দর কাস্টমসের সহকারী কমিশনার (এসি) সৌমেন কুমার চাকমা বলেন, আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজ করার চেষ্টা করছি। ব্যবসায়ীদেরও আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে ফাইলপত্র নিয়ে আসতে বলেছি। দীর্ঘদিন আমদানি-রফতানি কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আহরণ থেকে বঞ্চিত হয়েছি আমরা। আশা করছি কার্যক্রম শুরু হওয়ায় বন্দর কর্মমুখর হবে, রাজস্ব আহরণও হবে।