মোহাম্মদ নাসিমের মৃত্যুতে শোকে মুহ্যমান সিরাজগঞ্জ

মোহাম্মদ নাসিম (ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত)

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও ১৪ দলের সমন্বয়ক মোহাম্মদ নাসিম এমপির মৃত্যুতে গভীর শোকে মুহ্যমান তার নিজ জেলা সিরাজগঞ্জ ও কাজীপুর উপজেলা। তার মৃত্যুতে সিরাজগঞ্জে জেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাই শুধু নন, বিএনপিসহ অন্যান্য দলীয় লোকজন, সর্বস্তরের জনসাধারণ, প্রশাসনের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, গণমাধ্যমকর্মীরাও গভীর শোকাহত। তার মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর শনিবার (১৩ জুন) সকাল থেকে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই গভীর শ্রদ্ধাসহ শোক প্রকাশ করে আবেগঘন বিবৃতি দিয়েছেন। গত ১ জুন নিউমোনিয়ার সমস্যায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে রাজধানীর বাংলাদেশ  স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন মোহাম্মদ নাসিম। আজ শনিবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

বর্ষীয়ান এ রাজনীতিবিদের বিদায়ে তার জন্য দোয়া প্রার্থনা করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সাবেকমন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিশ্বাস, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ডা. হাবিবে মিল্লাত মুন্না এমপি, তাড়াশের এমপি ডা. আব্দুল আজিজ, শাহজাদপুরের এমপি হাসিবুর রহমান স্বপন, চৌহালীর এমপি আব্দুল মমিন মন্ডল, সিভিল সার্জন ডা. জাহিদুল ইসলাম, শহীদ এম.মনসুর আলী মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. নজরুল ইসলাম, সদর মেয়র সৈয়দ আব্দুর রউফ মুক্তা, শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাংবাদিক হেলাল উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক দানিউল হক, কাজিপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক উপজেলা চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান সিরাজী, উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদ হোসেন সিদ্দীক, জেলা যুবলীগের সভাপতি রাশেদ ইউসুফ জুয়েল, সাবেক সভাপতি মইনুদ্দিন খান চীনু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল হাকিম. স্বেচ্ছসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক জেহাদ-আল-ইসলাম, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ বিন সরকার, সাবেক সভাপতি আসাদুজ্জামান সোহেলসহ অনেক নেতাকর্মী।

করোনার মধ্যেও সিরাজগঞ্জে গিয়েছিলেন মোহাম্মদ নাসিম এমপি। ( ১৯ মে তোলা ছবি)

এদিকে, মোহাম্মদ নাসিমের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে একে একে জড়ো হতে থাকেন আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ অঙ্গসংগঠনের নেতা কর্মীরা। এসময় কান্নায় ভেঙে পড়েন অনেকে। তার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণ করেন নেতারা। নেতা-কর্মীদের দাবি ছিল মোহাম্মদ নাসিমের মরদেহ যেন একবারের জন্য হলেও তার জন্মস্থান সিরাজগঞ্জে নিয়ে আসা হয়। তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে লাশ সিরাজগঞ্জে আর আনা হচ্ছে না বলে জানান জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল লতিফ বিশ্বাস। তিনি আরও বলেন, জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শোকসভা ও দোয়া মাহফিলসহ ৭ দিনব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। জেলা আওয়ামী লীগসহ প্রতিটি উপজেলা ও থানায় একযোগে  এসব কর্মসূচি পালন করা হবে।

করোনার মধ্যেও মোহাম্মদ নাসিম গত ২ মে এবং ১৯ মে দু’বার সিরাজগঞ্জ ও কাজিপুর এসেছিলেন। সেসময় দুস্থ, অসহায় ও কর্মহীন মানুষজনের খোঁজখবর নেন তিনি। ছেলে সাবেক এমপি প্রকৌশলী তানভীর শাকিল জয় ও কাজিপুর উপজেলা চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান সিরাজীসহ শতাধিক নেতাকর্মীর মাধ্যমে সরকারি সাহায্যের পাশাপাশি তিনি ব্যক্তিগতভাবে অর্থ দিয়ে সিরাজগঞ্জ ও কাজিপুরের ২০ সহস্রাধিক কর্মহীন মানুষকে খাদ্য সহায়তাও দিয়েছেন। সেসময় হট লাইনের মাধ্যমে কাজিপুর ও সদরের প্রায় দু’হাজার গরিব ও অসহায় অসুস্থ মানুষকে তার ছেলে জয়ের মাধ্যমে বিনামূল্যে ঔষধ সরবরাহসহ স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থাও করেছিলেন নাসিম। গত ১৯ মে সিরাজগঞ্জ শহীদ এম.মনসুর আলী মেডিক্যাল কলেজে এসে পিসিআর ল্যাবের উদ্বোধন করেন। এছাড়াও ঢাকায় থাকলেও কখনও মোবাইলে বা কখনও সরাসরি ভিডিও কলের মাধ্যমে তিনি প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা বা কর্মীদের মাধ্যমে সদর ও কাজিপুরের মানুষজনের খোঁজ-খবর নিতেন। এসব কথা মনে করে প্রশাসন ও আওয়ামী লীগের নেতারা একদিকে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিচ্ছেন, আরেকদিকে একে অপরকে জড়িয়ে কাঁদছেন।