দুই বছর পর দেশে ফিরলো ভারতে পাচার হওয়া দুই বাংলাদেশি কিশোরী।
বেনাপোল দিয়ে শুক্রবার (১২ জুন) সন্ধ্যায় ভারতীয় ইমিগ্রেশন পুলিশ বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে তাদের হস্তান্তর করে।
ফিরে আসা দুই কিশোরীর একজনের বাড়ি কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া থানায় ও অপরজনের বাড়ি ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া থানায়। তাদের বয়স যথাক্রমে ১৭ ও ১৬ বছর।
বেনাপোল ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আহসান হাবিব জানান, বাংলাদেশী দুই কিশোরী দুই বছর আগে দালালদের খপ্পরে পড়ে সীমান্ত পথে ভারতে পাচার হয়ে যায়। এরপর তাদের গুজরাট এলাকায় নিয়ে গিয়ে অবৈধ কাজে বাধ্য করে পাচারকারীরা। সেখান থেকে পুলিশ তাদের আটক করে জেল হাজতে পাঠায় । পরে চিলড্রেন হোম ফর গার্লস আহমেদাবাদ গুজরাট নামে একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আদালতের মাধ্যমে তাদের জেল থেকে ছাড়িয়ে তাদের নিজেদের হেফাজতে রাখে। পরে দু-দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগের মাধ্যমে শুক্রবার সন্ধ্যায় ভারতীয় ইমিগ্রেশন পুলিশ তাদের বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। ইমিগ্রেশনের কার্যক্রম শেষে তাদেরকে বেনাপোল পোর্ট থানায় সোপর্দ করা হয়।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা বাংলাদেশ জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার এনজিও সংস্থার যশোর কো-অর্ডিনেটর মুহিত হোসেন জানিয়েছেন, বেনাপোল পোর্ট থানা থেকে এই দুই কিশোরীকে তিনি নিজ হেফাজতে নিয়ে তাদের বাড়িতে পাঠানো ব্যবস্থা করবেন।
এদের ভারত থেকে উদ্ধারের বিষয়ে মুহিত হোসেন জানান, একটি পাচারকারী চক্র অনৈতিক কাজের উদ্দেশ্যে তাদেরকে অবৈধপথে ভারতে পাচার করে দিয়েছিল। ভারতের গুজরাটের একটি নিষিদ্ধ পল্লিতে বিক্রি হয়ে যায় দুই কিশোরী। সেখানে তারা বিভিন্ন ভাবে নির্যাতনের শিকার হয়। এক পর্যায়ে সেখানকার পুলিশ তাদের উদ্ধার করে। পুলিশের কাছ থেকে চিলড্রেন হোম ফর গার্লস আহমেদাবাদ গুজরাট নামে একটি এনজিও সংস্থা ছাড়িয়ে তাদের নিজেদের হেফাজতে রাখে দুই কিশোরীকে।
তিনি জানান, ফেনির ছাগলনাইয়া থানার মেয়েটি বর্তমানে মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায়। সে ঠিকমতো কিছু বলতে পারছে না। ছাগলনাইয়া থানার ওসির সঙ্গে কথা হয়েছে তার পরিচয় জানার জন্য।
অন্যদিকে, কক্সবাজারের মেয়েটি নাম প্রকাশ না করে বলে, কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় আসমা নামে আমার এক বান্ধবী ভালো ঘরে বিয়ে দেওয়ার মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে আমাকে ভারতের গুজরাটে নিয়ে যায়। এরপর সেখানকার একটি নিষিদ্ধ পল্লিতে আমাকে রেখে পালিয়ে যায়। ওই পল্লিতে দীর্ঘদিন বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হই। এক পর্যায়ে সেখানকার পুলিশ উদ্ধার করে একটি এনজিও রাখে। পরে তারাই কিভাবে দেশে পাঠিয়েছে আমি জানি না।