করোনার ভয়ে বৃদ্ধা মাকে রেখেছে ঘরের বাইরে, খাবার চাইলেই মারধর

বৃদ্ধা গেনোদা বেপারীর ওপর তার ছেলে ও ছেলেবউ চালিয়েছে নির্যাতন।

৯৫ বছর বয়সী বৃদ্ধা গেনোদা বেপারী। নিজে হাঁটাচলা করার সামর্থ নাই। শারীরিকভাবেও অসুস্থ। এমন এক মাকে আগলে রাখার বদলে ঘর থেকে বের করে দিয়েছে তার ছেলে ও ছেলেবউ। বৃদ্ধার করোনা হতে পারে এমন আশঙ্কায় গত দুই মাস ধরে তাকে রাখা হয়েছে ঘরের বাইরে মন্দিরের সামনে। এতেই শেষ নয়, খাবার চাইলেই তার ওপর নেমে আসে শারীরিক নির্যাতন।

ছেলে জগদীশ বেপারী ও ছেলেবউ শিখা রানীর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ এনেছেন এই বৃদ্ধা।  তাদের বাড়ি বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার বারপাইকা গ্রামে।

বৃদ্ধা মায়ের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ পেয়ে মঙ্গলবার (১৬ জুন) ওই বাড়িতে যান স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বৃদ্ধা গেনোদার ডান হাতে মারের দাগ। কয়েক জায়গা কেটে রক্ত বেরিয়েছে। এসব দাগের কথা জানতে চাইলে বৃদ্ধা কাঁদতে থাকন। সাংবাদিকদের কাছে বৃদ্ধা অভিযোগ করেন, খাবার চাওয়ার অপরাধে ছেলে ও তার বউ কাল (সোমবার) তাকে খুব মেরেছে। শারীরিক নির্যাতন করেছে।

বৃদ্ধা জানান, গত সোমবার দুপুরে খাবার চেয়ে না পেয়ে তার নিজের নামে উত্তোলন করা বয়স্ক ভাতার টাকা চান ছেলের কাছে। এতে তার ছেলে জগদীশ ও ছেলের স্ত্রী শিখা ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করে।

গেনোদা ওই এলাকার প্রয়াত সূর্য্যকান্ত বেপারীর স্ত্রী।

ওই গ্রামের বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, বৃদ্ধা গেনোদা বেপারীর শরীরে করোনাভাইরাসের জীবানু আছে এমন আশঙ্কা করে গত দু’মাস ধরে তাকে ঘরে না রেখে ঘরের বাইরে মন্দিরের সামনে রেখেছে তার ছেলে ও ছেলেবউ। তারা এলাকার কারও কথা শুনতে চায় না।

প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা বিভূতি মণ্ডল ও বাসুদেব সরকার জানান, নির্যাতনের সময় বৃদ্ধার চিৎকারে তারা এগিয়ে গেলে জগদীশের স্ত্রী শিখা রানী তাদের অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে এবং বিষয়টি কাউকে জানালে মামলা করার হুমকি দেয়।

জানতে চাইলে অভিযুক্ত জগদীশ বেপারী বলেন, বিষয়টি তাদের পারিবারিক। এখানে কাউকে নাক গলাতে হবে না। এসময়  স্থানীয় সাংবাদিকরা এ বিষয়টি নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করছে এমন মন্তব্যও করেন তিনি।

বৃদ্ধাকে শারীরিক নির্যাতনের খবর পেয়ে তার জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী, ওষুধ এবং খাদ্য সহায়তা পাঠিয়েছেন আগৈলঝাড়া থানার ওসি আফজাল হোসেন। একইসঙ্গে অভিযুক্ত ছেলে ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

ওসি জানান, সামাজিক যোগযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক বৃদ্ধাকে নির্যাতনের ছবি দেখে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, অনাহারি ওই বৃদ্ধার জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য ও ওষুধ সামগ্রী এবং কিছু ফল কিনে পাঠিয়েছেন।

জানতে চাইলে আগৈলঝাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুর রইচ সেরনিয়াবাত বলেন, এ বিষয়ে কিছুই জানেন না তিনি। খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।