সভায় খুলনা সিটি করপারেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক, বিভাগীয় কমিশনার ড. মু. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার, খুলনা স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক ডা. রাশেদা সুলতানা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় জানানো হয়, অধিকমাত্রায় করোনা আক্রান্ত শনাক্ত হওয়ায় এই তিনটি এলাকা রেড জোনের আওতায় নিয়ে লকডাউন করা হবে। ১৬ জুলাই পর্যন্ত এই লকডাউন কার্যকর থাকবে। ওই এলাকার সোনাডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড, খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও কাঁচাবাজার লকডাউনের আওতামুক্ত থাকবে। লকডাউন শুরুর আগে মাইকিং করে জনসাধারণকে জানানো হবে। ওই এলাকার ব্যক্তিদের করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য নমুনা দেওয়ার পর রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত স্বেচ্ছায় নিজ বাড়িতে অথবা বাসায় অবরুদ্ধ থাকতে হবে। ল্যাবের ধারণক্ষমতার তুলনায় নমুনা সংগ্রহ বেশি হওয়ায় রিপোর্ট প্রদানে দেরি হচ্ছে বলে জানানো হয়।
কোভিড-১৯ রোগী ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় খুলনা জেনারেল হাসপাতালের চতুর্থ তলায় ৪২টি বেড নিয়ে নতুন কোভিড-১৯ চিকিৎসাকেন্দ্র অতি দ্রুত প্রস্তুত করা হবে। ডায়াবেটিস হাসপাতালে (বর্তমানে কোভিড চিকিৎসা কেন্দ্র) একটি হাই ফ্লো অক্সিজেন ন্যাজাল ক্যানোল ক্রয় করা হবে। কোভিড-১৯ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে সুস্থ বোধ করলে এবং পরপর তিন দিন জ্বর না থাকলে তাকে পরীক্ষা ছাড়াই হাসপাতাল থেকে অবমুক্ত (রিলিজ) করা হবে। করোনভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর বাড়িতে লাল পতাকা উড়িয়ে চিহ্নিত করা হবে। জনসাধারণকে মাস্ক ব্যবহারে কড়াকড়ি আরোপ করা হবে।
সভায় সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, ‘ঈদের সময়ে জনসাধারণের যথেচ্ছ চলাফেরায় খুলনায় করোনভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা যদি আজকের সভার সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়ন করি এবং সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধিগুলো মেনে চলি তাহলে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে মুক্ত থাকতে পারবো।’
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন– অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার সরদার রকিবুল ইসালম, পুলিশ সুপার এসএম শফিউল্লাহ, খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মুন্সী মো. রেজা সেকেন্দার, খুলনা মেডিক্যাল কলেজের উপাধ্যক্ষ ডা. মেহেদী নেওয়াজ, খুলনার সিভিল সার্জন ডা. সুজাত আহমেদ, খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিসের উপপ্রধান তথ্য অফিসার ম. জাভেদ ইকবাল, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান খান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জিয়াউর রহমান, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপপরিচালক মো. আব্দুল আলিম, খুলনা প্রেস ক্লাবের সভাপতি এসএম নজরুল ইসলামসহ বিভিন্ন সরকারি দফতরের কর্মকর্তারা।