করোনা উপসর্গে রাজশাহীতে সাত জনের মৃত্যু

করোনাভাইরাসরাজশাহীতে করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে একদিনে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২৭ জুন) দিবাগত রাত ১২টার পর থেকে রবিবার দুপুর পর্যন্ত তারা মারা যান। তাদের মধ্যে চারজন রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে মারা গেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রামেক হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস।

রামেক হাসপাতালের মারা যাওয়া রোগীরা হলেন– রাজশাহী নগরীর আমবাগান এলাকার সাইদুর রহমান (৪৫), শিরোইল কলোনি বড় মসজিদ এলাকার সিয়ামুল হক (৬০), লক্ষ্মীপুর ভাটাপাড়া এলাকার রাবেয়া বেগম (৬৫) এবং ঘোষপাড়া এলাকার মো. খোকন (৪০)। তাদের মধ্যে খোকন ও সাইদুর মারা গেছেন হাসপাতালের ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডে। সাইদুর ছিলেন ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে। আর রাবেয়া বেগম ছিলেন হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ)।

মৃত অন্য তিনজন হলেন– রাজশাহীর তানোর উপজেলার কামারগাঁ গ্রামের মকবুল হোসেন (৭৫), রাজশাহীর হজরত শাহমখদুম (র.)-এর মাজারে আসা যশোরের অভয়নগরের আশরাফুল ইসলাম (৪৮) এবং বোয়ালিয়া থানা এলাকার সুভাষ চন্দ্র সাহা (৫০)।

ডা. সাইফুল ফেরদৌস জানান, হাসপাতালে করোনার উপসর্গ নিয়ে যারা মারা গেছেন তাদের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এছাড়াও তাদের লাশ দাফনের জন্য কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনকে জানানো হয়েছে।

কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন, পুলিশ ও স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যমতে, করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া তানোরের মকবুল হোসেনের দুই ছেলে করোনায় আক্রান্ত। মকবুল ছাড়া বাকি সবার লাশ দাফনের ব্যবস্থা করেছেন কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবকরা।

মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার গোলাম রুহুল কুদ্দুস জানান, যশোরের আশরাফুল ইসলাম হজরত শাহমখদুম (র.)-এর মাজারের সামনে থাকতেন। কয়েকদিন ধরে তার জ্বর ছিল। রবিবার সকালে তিনি মারা যান। খবর পেয়ে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে রামেকের মর্গে পাঠায়। পরে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনকে দাফনের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

রাজশাহী জেলা সিভিল সার্জনের তথ্যমতে, ২৭ জুন পর্যন্ত রাজশাহী জেলায় মোট করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৫১৩ জন। এর মধ্যে রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) এলাকায় ৩৫৫ জন।

অন্যদিকে, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) উদ্যোগে করোনায় আক্রান্তদের পরিবারের  জন্য ৩০ কেজির এক বস্তা চাল, আরেক বস্তায় ১৩ পদের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী দেওয়া হচ্ছে।

এ ব্যাপারে সিটি মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, ‘করোনায় আক্রান্তদের বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। করোনায় আক্রান্ত হওয়ার কারণে যেসব পরিবার লকডাউনে থাকছে, তাদের অন্তত ১৫ দিনের খাবার বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিচ্ছি। তাদের নিয়মিত খোঁজখবর রাখতে স্থানীয় কাউন্সিলরদের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।’