রংপুরে টানা ১২ ঘণ্টা বর্ষণে পানিবন্দি মহানগরীর ৩০টি মহল্লা

রংপুরে টানা ১২ ঘণ্টার বর্ষণে ডুবে গেছে নগরীরর রাস্তাঘাট

দেশের উঁচু এলাকারগুলোর অন্যতম রংপুর। তিস্তা নদী দূরে, খানিক দূরে ঘাঘট নদী থাকলেও শহরে কখনও পানি ঢোকে না। সেই শহরকেই একেবারে নাজুক করে ছেড়ে দিলো টানা ১২ ঘণ্টার বৃষ্টি। শনিবার মধ্যরাত থেকে একটানা ১২ ঘণ্টার অঝোর ধারার বৃষ্টিতে হুট করে তলিয়ে গেছে রংপুর মহানগরীর বেশিরভাগ এলাকা। এরমধ্যে অন্তত ৩০টি মহল্লা এখন হাঁটু থেকে কোমর পর্যন্ত পানির নিচে। বাড়ি ঘরে পানি প্রবেশ করায় অন্তত ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি। বাধ্য হয়ে শহরের বাড়ি ঘর ছেড়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিয়েছেন তারা।

রংপুর আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, রবিবার দুপুর ৩টা পর্যন্ত গত ১২ ঘণ্টায় ২শ’ ৪১ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে যা বিগত ১৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

এদিকে এই বৃষ্টিপাতের মধ্যে বজ্রাঘাতে এক শিশুসহ দুজন মারা গেছেন।

সরেজমিন রংপুর নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, নগরীর নিচু এলাকাসহ বিভিন্ন সড়ক ২/৩ ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। নগরীর বাবু খাঁ ও কামার পাড়া এলাকায় প্রধান সড়ক তলিয়ে গেছে এবং আশেপাশের নিচু এলাকার শত শত বাড়িতে পানি প্রবেশ করায় অনেক পরিবার বাড়ি ঘর ছেড়ে পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিয়েছে।

নগরীর রাস্তাঘাটে বৃষ্টির পানি জমে গেছে। এরমধ্যেও ছিল আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর রুটিন টহল।

ওই এলাকার বাসিন্দা নিজাম উদ্দিন, আলেয়া বেগমসহ অনেকে জানান, রাত থেকে অবিরাম বৃষ্টিতে তাদের বাড়ির ভেতরে পানি ঢুকে পড়ায় সেখানে থাকার এখন উপায় নেই। বাধ্য হয়ে তারা অন্যত্র চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন।

একই ভাবে নগরীর শালবন, মিস্ত্রিপাড়া, কামাল কাছনা, মাহিগঞ্জ, কলাবাড়ি দর্শনা, মর্ডান মোড় সংলগ্ন বিভিন্ন মহল্লা, মুন্সিপাড়া, হনুমান তলা, মুলাটোল, মেডিক্যাল পাকার মাথা, জলকর, নিউ জুম্মাপাড়া, হনুমান তলা বস্তিসহ ৩০টিরও বেশি মহল্লা হঠাৎ বৃষ্টির পানিতে প্লাবিত হয়েছে। নগরীর বিভিন্ন সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচলে ব্যাঘাত ঘটছে বলে দুর্ভোগে পড়া এলাকাবাসী জানিয়েছেন।

অপরদিকে, ঘাঘট নদী ও শ্যামা সুন্দরী খাল তলিয়ে যাওয়ায় তীরবর্তী এলাকায় হাজার হাজার বাড়ি ঘরে পানি প্রবেশ করেছে। ফলে মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। তবে দুপুর সাড়ে ৩ টার পর বৃষ্টি কমে যাওয়ায় উঁচু এলাকা থেকে পানি সরে গেলেও নিচু এলাকার পানি সরে যেতে আরও এক সপ্তাহ লাগতে পারে এলাকাবাসী ও রংপুর সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র টিটু জানিয়েছেন।

তবে আবহাওয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী আবারও বৃষ্টি ও বন্যার সম্ভাবনা থাকায় নদীবর্তী এলাকার মানুষের কষ্ট আরও দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ভারী বৃষ্টিতে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষ।

এদিকে মুষল ধারে বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাতে নগরীর কামার পাড়া ও দর্শনা এলাকায় ৭ বছরের শিশুসহ দুজন মারা গেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

রংপুর আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, শনিবার রাত রাত ৩ টা থেকে রবিবার দুপুর ৩টা পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ২শ ৪১ দশমিক ৪ মিলিমিটার। তিনি জানান, আবারও বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টির পরিমাণ বেশি হলে নগরীর অনেক এলাকা ফের তলিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান জানান, বৃষ্টির কারণ তিস্তা নদীর পানি তেমন বৃদ্ধি পায়নি। তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে ও কাউনিয়ায় এখনও বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

তিনি জানান, অবিরাম বর্ষণের কারণে দেশে নদ-নদীর পানি তেমন বৃদ্ধি হয় না। এটা হয় মূলত ভারতের উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে।

এদিকে, দেশে দুই দফার এমন বন্যার পর তৃতীয় দফায় আবারও হতে পারে বলে আজই সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া অধিদফতর।