কুড়িগ্রামে বন্যাজনিত ডায়রিয়ার প্রকোপ বাড়ছে, একজনের মৃত্যু

কুড়িগ্রামের তিস্তার স্পার বাঁধের স্যাঙ্ক ধসে বিলীন হয়েছে ৫০ মিটার এলাকা। নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা এলাকাবাসীর জমি জায়গা

কুড়িগ্রামের উলিপুরে ব্রক্ষ্মপুত্র অববাহিকার বন্যা উপদ্রুত এলাকায় ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব শুরু হয়েছে। এক সপ্তাহে এ এলাকার ৬ জন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এছাড়াও সোমবার রাতে চিকিৎসা নিতে আসার পথে এক ব্যক্তি মারা গেছেন। পানিবন্দি এলাকায় সুষ্ঠু চিকিৎসা সেবা এবং নিরাপদ পানি না পাওয়ার কারণেই এ সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে বলে পানিবন্দি মানুষেরা অভিযোগ করেছেন।

তবে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুভাষ চন্দ্র সরকার দাবি করেছেন, বন্যা দুর্গত এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ১৫টি মেডিক্যাল টিম সার্বক্ষণিক চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত রয়েছে।

কুড়িগ্রামে বন্যা

সোমবার (২০ জুলাই) রাতে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত মনাই বর্মন সাদু (৬০) নামে এক ব্যক্তিকে মুমূর্ষু অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে দাবি করছেন তার স্বজনরা।

তবে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুভাষ চন্দ্র সরকার জানিয়েছেন, ওই রোগীকে হাসপাতালে ভর্তির আগেই তার মৃত্যু হয়।

মনাই বর্মন সাদু উপজেলার পৌর এলাকার রাজারামক্ষেত্রি গ্রামের রুহিদাস বর্মনের ছেলে বলে জানা গেছে।

মৃতের ছেলে রতন বর্মন বলেন, ‘বাবা তিন দিন ধরে পাতলা পায়খানায় ভুগছিলেন, সোমবার তার অবস্থার অবনতি হলে উলিপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। কিন্তু তার চিকিৎসা শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পর তিনি মারা যান।’

উলিপুর স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে ৬ জন রোগী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলমান বন্যা ও ভারী বর্ষণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টির কারণে পানিবন্দি মানুষজন ডায়রিয়া ও জ্বর-সর্দিসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। কাগজে কলমে স্বাস্থ্য বিভাগের মেডিক্যাল টিম থাকলেও মাঠে তাদের কার্যক্রম পরিলক্ষিত হচ্ছে না। বানের পানিতে বেশিরভাগ কমিউনিটি ক্লিনিক জলমগ্ন থাকায় গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে বিভিন্ন পল্লি চিকিৎসক ও ওষুধের দোকানদারদের কাছে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন বানভাসিরা।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুভাষ চন্দ্র সরকার বলেন, মনাই বর্মন সাদুকে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বন্যা দুর্গত এলাকায় মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ১৫ টি মেডিক্যাল টিম সার্বক্ষণিক চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত রয়েছে।