মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে মোংলা বন্দরে আমদানি নিষিদ্ধ পণ্য আনার দায়ে ঢাকার দুই আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। রবিবার (১৬ আগস্ট) বিকেলে মোংলা থানায় ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে মোংলা কাস্টম হাউসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (এ আরও) মো. এমাদুল হক বাদী হয়ে এ মামলা করেন। মামলা নম্বর-১৪। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই তুহিন মন্ডল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এসআই তুহিন বলেন, গত ১০ আগস্ট মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে মোংলা বন্দরে চার কন্টেইনারে করে ৬৮ হাজার ২৫৬ কেজি আমদানি নিষিদ্ধ পোস্তদানা আনে ঢাকার চকবাজার এবং সোয়ারি ঘাটের দুই আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স তাজ এবং আয়শা ট্রেডার্স। বন্দরে আসা নিষিদ্ধ এ পণ্য মোংলা কাস্টম হাউসের গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের গোপন তথ্য অনুযায়ী ১৩ আগস্ট তা জব্দ করা হয়।
আমদানি নিষিদ্ধ এ পোস্তদানার মূল্য ১০ কোটি ৯২ লাখ ২৪ হাজার ৮৮৬ টাকা বলে জানান এস আই তুহিন মন্ডল। জব্দকৃত ওই পোস্তদানা মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সহকারী নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. মজিবর রহমানের জিম্মায় রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে আমদানি নিষিদ্ধ পণ্যের এ চালান আনার পরই গা ঢাকা দিয়েছেন আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের মালিক মো. সাব্বির হোসেন ও মো. আকবার হোসেন।
মোংলা কাস্টম হাউসের শীর্ষ এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এই দুই পণ্য আমদানিকারক এর আগে ১৩ কন্টেইনারে করে আমদানি নিষিদ্ধ পোস্তদানা এনে তা বন্দর থেকে কৌশলে খালাস করেছেন। সে ঘটনাতেও এখন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান ওই কাস্টম কর্মকর্তা।
এদিকে মোংলা কাস্টম হাউসের কমিশনার মো. হোসেন আহম্মেদ জানান, মোংলা বন্দরের আমদানি নিষিদ্ধ এই পণ্য নিয়ে গত ১০ আগস্ট সাইপ্রাসের পতাকাবাহী জাহাজ ‘এমভি স্যানজর্জিও’ মোংলা বন্দরের জেটিতে আসে। জাহাজটিতে থাকা ৩১৭টি কন্টেইনারের মধ্যে চারটি কন্টেইনারে আমদানি নিষিদ্ধ পণ্য পোস্তদানা আছে, এমন গোপন সংবাদে জাহাজটি বন্দর জেটিতে আসার আগেই ওই পণ্যবাহী কন্টেইনার আটক করে কাস্টম কর্তৃপক্ষ।
জব্দকৃত আমদানি নিষিদ্ধ পোস্তদানা আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিনষ্ট করা হবে বলেও জানান তিনি।
প্রসঙ্গত: পোস্তদানা হচ্ছে নিষিদ্ধ মাদক দ্রব্য আফিমের উপজাত। বাজারে অহরহ পাওয়া গেলেও এটি আমদানি নিষিদ্ধ পণ্য। এই পোস্তদানার ইংরেজি নাম পপিসিড। পপি গাছের বীজ থেকে কাঁচা অবস্থায় রস সংগ্রহ করে আফিম তৈরি হয়। আর এই বীজ পরিপক্ব হলে তার নাম হয় পপিসিড বা পোস্তদানা। এ হিসেবে পোস্তদানাকে আফিম বলা হয়। নেশাদ্রব্য হিসেবেও পোস্তদানার ব্যবহার আছে।
আগের সংবাদ:
টেনিস বলের পরিবর্তে কন্টেইনারে আসলো আমদানি নিষিদ্ধ আফিম!