জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সাহাবুল হোসেনের দায়ের করা মামলায় ছাত্রলীগ নেতা রকিবুল ইসলাম নিপ্পনসহ ছয় জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৪০/৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৩ আগস্ট জেলা শিল্পকলা একাডেমি চত্বরে ‘অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে ওয়ার্কশপ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় অংশ নেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সাংসদ সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন। এসময় তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে ১৬ মিনিট ৫৪ সেকেন্ড বক্তব্য রাখেন। কিন্তু ওই বক্তব্য কেটে ও এডিট করে ৩০ সেকেন্ডের একটি অসত্য ও বিকৃত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুক) প্রচার করা হয়।
অপরদিকে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য মাফিজুর রহমান মাফি জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সাহাবুল হোসেনসহ পাঁচ জনের নাম উল্লেখ করে একই ধারা মামলা দায়ের করেন। তিনি মামলার এজাহারে উল্লেখ করেন, গত ১৭ আগস্ট ভিজিএফের চাল নিয়ে চুয়াডাঙ্গার পৌর মেয়র ওবায়দুর রহমানের নামে মিথ্যা ও মানহানিকর তথ্য প্রচার করা হয়। আসামিরা তাদের ব্যক্তিগত ফেসবুক ওয়ালে মেয়রের নামে ভিত্তিহীন অপবাদ দিয়ে কুরুচিপূর্ণ স্ট্যাটাস পোস্ট করেছেন।
এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জিহাদ ফকরুল আলম খান জানান, চুয়াডাঙ্গায় আওয়ামী লীগ দুটি ধারায় বিভক্ত। গত ২৮ জুলাই ঈদুল আজহা উপলক্ষে গরীব অসহায়দের মধ্যে ভিজিএফের চাল বিতরণকে কেন্দ্র করে পৌর মেয়রের কার্যালয়ে এমপি এবং পৌর মেয়রের সমর্থকদের মধ্যে অস্বস্তিকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে পৌর মেয়র এবং এমপি গ্রুপের সমর্থকবৃন্দ পৌরসভার সামনে পাল্টাপাল্টি অবস্থান নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে মানববন্ধনের মাধ্যমে একে অপরের বিরুদ্ধে বিষোদগার করেন। এসব ঘটনা নিয়ে এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানস্থলের বক্তব্য বা বক্তব্যের আংশিক কর্তন করে কিংবা বিকৃতভাবে সামাজিক মাধ্যমে দুই গ্রুপেরই কিছু চিহ্নিত উচ্ছৃঙ্খল রাজনৈতিক কর্মী বা নেতা জেলার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়ে বাজে মন্তব্য করতে দেখা গেছে। এ বিষয়ে দুটি গ্রুপই পাল্টাপাল্টি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।