'বাতিঘরের সুনাম ক্ষুণ্ন করতেই মামলায় জড়ানো হয়েছে'

5e7bec19a9b6e3141d1d29e1138424f9-5f39a48037941

বাতিঘরের সুনাম ক্ষুণ্ন করতেই অযৌক্তিকভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী দীপংকর দাশ। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, 'যেই বইটিকে কেন্দ্র করে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে, আমি ওই বইটির লেখকও না, প্রকাশকও না। বইটি বিক্রির জন্য আমরা আমাদের প্রতিষ্ঠানে রেখেছি। আমরা অনেক লেখক প্রকাশকের বই রাখি। বিক্রির জন্য প্রতিদিন আমরা বিভিন্ন বই নিয়ে স্ট্যাটাস দিই। অনুরূপভাবে ওই বইটি নিয়েও ওইদিন স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম। এরপর কয়েকজন বইটি নিয়ে আপত্তি তোলায় আমরা স্ট্যাটাসটি ডিলিট করে দিয়েছি। এরপরও আমাকে মামলায় জড়ানো অযৌক্তিক।'

এর আগে, ১২ আগস্ট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট খায়রুল আমীনের আদালতে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে বইটির লেখক সালেহ আহমেদ মুবিন ও বিপণী প্রতিষ্ঠান ও প্রকাশনা সংস্থা বাতিঘরের বিরুদ্ধে ১০ কোটি টাকার মানহানি মামলাটি দায়ের করেন চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও এলাকার বাসিন্দা রূপায়ণ কান্তি চৌধুরী। গত ১৬ আগস্ট এ বিষয়ে বাদী আদালতের আদেশ পেয়েছেন।

এ সম্পর্কে দীপংকর দাশ বলেন, 'আমাদের প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করতেই আমাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে। কেননা বইয়ের কনটেন্টের জন্য এর আগে কখনও বিপণনকারীকে মামলায় জড়াতে দেখিনি। মামলায় বলা হয়েছে, একটি সম্প্রদায়ের অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে। যদি তাই হয়, তাহলে এর জন্য মানহানির মামলা কেন করেছেন।'

মামলা দিয়ে বাতিঘরের সুনাম ক্ষুণ্ন করায় পাল্টা মানহানি মামলা করার চিন্তা করছেন জানিয়ে তিনি বলেন, 'মামলায় জড়ানোর কারণে আমাদের প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে। তাই আমরা চিন্তা করছি এই ঘটনায় আমরা একটি মানহানির মামলা করবো। আইনজীবীর সঙ্গে আমাদের কথা হচ্ছে।'

মামলার এজহারে উল্লেখ করা হয়, লেখক সালেহ আহমেদ মুবিন ‘লোশক’ নামে একটি বইয়ের লেখেন। যেখানে বৌদ্ধ ধর্ম এবং এর প্রবর্তক ও প্রচারক গৌতম বুদ্ধের বিরুদ্ধে মানহানিকর বিভিন্ন তথ্য উপস্থাপন করা হয়। এছাড়া বইটিতে বৌদ্ধ ধর্মের ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে। আর ওই বইটি বিক্রির জন্য গত ১০ আগস্ট দীপংকর দাশ বাতিঘরের ফেসবুক পেজে একটি বিজ্ঞাপন প্রকাশ করেন। এর মাধ্যমে বৌদ্ধ ধর্মীয় রীতিনীতি ও আচার-আচরণকারীদের অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে এবং ১০ কোটি টাকার মানসম্মানের ক্ষতি হয়েছে। এই ঘটনায় বুুধবার দণ্ডবিধির ৫০০, ৫০১ ও ৫০৪ ধারায় মামলার আরজি গ্রহণের জন্য রূপায়ণ কান্তি চৌধুরী আদালতে আবেদন করেন। আদালত আজ আরজি গ্রহণ করে পিবিআইকে মামলা তদন্তে নির্দেশ দেন।