স্থানীয়রা জানান, বুধবার থেকে শুরু হওয়া টানা বর্ষণ, অস্বাভাবিক জোয়ার এবং ঘূর্ণিঝড় আম্পান পরবর্তী সময়ে মেরামত না করায় জোয়ারের পানিতে বেড়িবাঁধ ভেঙে হাতিয়া উপজেলার সুখচর, নলচিরা, চরঈশ্বর, চর কিং, হরনী, চানন্দী, নিঝুম দ্বীপ, জাহাজমারা, বুড়ির চর, সোনাদিয়া ও তমরদ্দি ইউনিয়নের প্রায় ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, সুখচর ইউনিয়নের চর আমানউল্যা, বৌ বাজার ও চেয়ারম্যান বাজার, নলচিরা ইউনিয়নের নলচিরা ঘাট এলাকা ও তুফানিয়া, চর ঈশ্বর ইউনিয়নের তালুদার গ্রাম, ফরাজী গ্রাম, ৭ নম্বর গ্রাম ও মাইচ্ছা মার্কেট এলাকা, সোনাদিয়া ইউনিয়নের মাইজচরা, তমরদ্দি ইউনিয়নের ক্ষিরোদিয়া গ্রাম, হরনী, চানন্দী ও নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়নএর ২০টি গ্রামের প্রায় ১০ হাজার পরিবারের ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এছাড়া নতুন করে সোনাদিয়া ইউনিয়নের মাইজচরা ও তমরদ্দি ইউনিয়নের ক্ষিরোদিয়া গ্রামে বেড়িবাঁধ ভেঙে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এসময় জোয়ারের স্রোতে প্রায় ৫০টি পরিবারের বসতঘর ভেসে যায়। অনেকে বেড়ির ওপরে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছেন।
নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মেহেরাজ উদ্দিন জানান, বেড়িবাঁধ না থাকায় চারদিক থেকে জোয়ারের পানি উঠে ৫ ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে দ্বীপের অধিকাংশ এলাকা। এতে ঘেরের মাছ ভেসে যায়, আবাদি ফসলের অনেক ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াও বনের মধ্যে বসবাস করা হরিণের দল লোকালয়ে চলে এসেছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম বলেন, উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের ১০ হাজার পরিবারের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
তিনি আরও জানান, দ্রুত বেড়িবাঁধ মেরামতের জন্য জেলা প্রশাসক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।