ধর্ষণের শিকার কিশোরীকে ফেরত দিলেও গ্রেফতার হয়নি কেউ




কুড়িগ্রামতুলে নিয়ে যাওয়ার পর ধর্ষণের শিকার কিশোরীকে ফেরত দিয়েছে ধর্ষক ও তার পরিবারের লোকেরা। উলিপুর উপজেলার গুঁনাইগাছ ইউনিয়নের নিজ বাড়ি থেকে গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকালে ওই কিশোরীকে তুলে নিয়ে গিয়েছিলো ধর্ষণ মামলায় চার্জশিটভুক্ত আসামি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থী এক কিশোর ও তার পরিবার। তবে এ ঘটনায় এখনও অভিযুক্ত কিশোর কিংবা তার পরিবারের কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে উলিপুর উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে অপহৃত ওই কিশোরীকে থানা হেফাজতে নেয় উলিপুর থানা পুলিশ। উলিপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রুহুল আমিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয়রা জানান, গুঁনাইগাছ ইউনিয়নের নুর আলমের দ্বাদশ শ্রেণি পড়ুয়া ছেলে সোহেল রানা ও তার পরিবারের সদস্যরা এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত।

এদিকে গুঁনাইগাছ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ (খোকা) জানান, অভিযুক্ত কিশোর সোহেল রানার বাবা নুর আলমের সঙ্গে কথা বলে অপহৃত মেয়েটিকে ফেরত আনা হয়। শনিবার দুপুরে উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আবু সাঈদ সরকারের প্রচেষ্টায় ওই শিশু শিক্ষার্থীকে ফেরত দেয় ছেলের পরিবার।

উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আবু সাঈদ সরকার বলেন, ‘কৃষ্ণমঙ্গল গ্রামের বাসিন্দা আমার আত্মীয়দের মাধ্যমে অভিযুক্ত কিশোরের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে কৌশলে অপহৃত কিশোরীকে আমার কাছে ফেরত দিতে বলি। পরে তারা একটি রিকশাযোগে ওই কিশোরীকে উপজেলা পরিষদ কার্যালয় চত্বরে পাঠিয়ে দেয়। পরে শিশুটিকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করি।’

এদিকে আট মাসেও পুলিশ ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেফতার না করায় ফের তারা কিশোরীটিকে তুলে নেওয়ার সাহস দেখিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগীর বাবা। তিনি বলেন, ‘আমার মেয়ের বয়স মাত্র ১৩ বছর। এই অবস্থায় তাকে বিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। সে এখনও বিয়ে বা সংসার করার উপযুক্ত হয়নি। আট মাস আগে সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করলেও পুলিশ এখনও তাকে গ্রেফতার করেনি। সে গ্রেফতার না হলে আবারও সে আমার মেয়েকে তুলে নিয়ে যাবে।’

তিনি বলেন,‘ সোহেল রানা বিভিন্ন সময় তার মেয়েকে ধর্ষণ করেছে। এ ঘটনায় গত জানুয়ারি মাসে থানায় ধর্ষণ মামলা হয়েছে এবং অভিযুক্তের নামে চার্জশিটও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আট মাসেও পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেনি। মেয়ের বয়স কম হওয়ায় তার সর্বনাশ করতে পেরেছে সোহেল রানা।’

তবে অভিযুক্ত কিশোর ও তার পরিবারকে গ্রেফতারে পুলিশি অবহেলার বিষয়টি নাকচ করে উলিপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রুহুল আমিন বলেন, ‘অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তার পরিবারের লোকজন পলাতক থাকায় অভিযান পরিচালনার পরও কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তবে পুলিশি তৎপরতা চলমান রয়েছে।’

ভুক্তভোগী শিশু শিক্ষার্থীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।