নকল১বাজারে প্রচলিত কুমারিকা তেল হয়ে গেছে কণ্যারিকা। ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি হয়েছে ফেসিয়াল লাভলি। সুগন্ধি ফগ হয়ে গেছে ফগস। আর আটা-ময়দা ব্যবহার করে তৈরি হচ্ছে নকল ফেসিয়াল প্যাক। নিম্নমানের ও ক্ষতিকারক উপকরণ দিয়ে তৈরি হতো বিএসটিআই’র অনুমোদনহীন এসব প্রসাধন সামগ্রী। তবে বিক্রির জন্য খুবই চাকচিক্যভাবে মোড়ক তৈরি করা হয়। মোড়কে নাম লিখা হয় সূক্ষ্মভাবে। খুব মনোযোগ দিয়ে না দেখলে বুঝার উপায় নেই প্রসাধনীগুলো নকল। গত দু’বছরের অধিক সময় ধরে কুমিল্লা নগরীর মোগলটুলি এলাকা থেকে বাজারজাত করা হচ্ছিল এসব সামগ্রী।
সোমবার (২৪ আগস্ট) কারখানাটিতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর ও কুমিল্লা জেলা প্রশাসন যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। পরে কারখানাটিকে সিলগালা করা হয়। মালিককে দেওয়া হয় ছয় মাসের জেল, করা হয় ১৫ হাজার টাকা জরিমানা। এখানে পাঁচটি দেশি, ২৫টি বিদেশি প্রসাধনীর নকল পণ্য তৈরি করতেন মালিক আবু সুফিয়ান। তিনি নিজেই মালিক, নিজেই কেমিস্ট।
নকলআবু সুফিয়ানের বাড়ি কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার নবাবপুর এলাকায়। নগরীর মোগলটুলি এলাকায় তিন কক্ষের ভাড়া বাসায় এসব পণ্য তৈরি করেন। আবু সুফিয়ান জানান, ঢাকা থেকে কেমিক্যাল ও অন্যান্য উপকরণ এনে তিনি এসব প্রসাধনী তৈরি করতেন। তিনি নিজেই কারখানার মালিক, নিজেই কেমিস্ট। পণ্য বাজারজাত করতেনও নিজেই। তিনি ট্রেড মার্কের জন্য আবেদন করেছেন। ব্যবসা পরিচালনার জন্য আর কোনও অনুমোদনপত্র তার নেই।
নকল২ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর কুমিল্লার সহকারী পরিচালক মো. আছাদুল ইসলাম বলেন, মোগলটুলি হাইস্কুলের পেছনের একটি বাড়িতে দু’টি কক্ষে তৈরি হচ্ছে প্রসাধনী। এসে দেখি তিন জন মহিলা প্রসাধনী মোড়কজাত করছেন। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে এসব প্রসাধনী। কারখানায় কোনও ল্যাব নেই, প্লাস্টিকের ড্রামে রাখা হয়েছে প্রসাধনী তৈরি জন্য আটা-ময়দা। পাশে খোলা ড্রামে তেল ও কেমিক্যাল। ড্রামের আটা-ময়দা, তেল ও কেমিক্যাল মিশ্রণে ব্যবহার হতো একটি যন্ত্র। এগুলোর মাধ্যমেই তৈরি হতো নকল প্রসাধন।পাঁচটি দেশি ও ২৫টি বিদেশি প্রসাধনীর ক্যাটাগরির নকল পণ্য তৈরি করতেন আবু সুফিয়ান।
নকল৩কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজের পরিচালক ডা. মজিবুর রহমান বলেন, সঠিক উপায়ে ব্যবহার না হলে যেকোনও কেমিক্যাল স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। মোগলটুলিতে যেভাবে প্রসাধনী তৈরি করা হয়েছে, সেগুলো স্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ। এগুলো ব্যবহারে চর্মরোগ এবং ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কা বেশি।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু সাঈদ জানান, কারখানার মালিক কোনও বৈধ কাগজ দেখাতে পারেননি। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে প্রসাধনী তৈরি করতেন, নেই কোনও ল্যাব। নেই কোনও কেমিস্ট। বিভিন্ন দেশি-বিদেশি প্রসাধনীর আদলে নকল প্রসাধনী তৈরি করতেন। মালিক আবু সুফিয়ানকে ছয় মাসের জেল ও ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।