অপারেশনের সময় এক নারীর জরাযু কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। সোমবার রাত ১টার দিকে হবিগঞ্জ শহরের সেন্ট্রাল হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এই ঘটনাটি ঘছে। খবর পেয়ে রোগীর স্বজনরা হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভ করে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। তবে চিকিৎসক এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, ওই নারীর জরায়ু কাটা পড়েনি তবে অন্য সমস্যা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) জানা যায়, জেলার বানিয়াচং উপজেলার মক্রমপুর গ্রামের মৃত নোয়াজিশ মিয়ার স্ত্রী খদর চাঁন (৬৫) জরায়ু টিউমারে আক্রান্ত হন। গত এক সপ্তাহ আগে তিনি হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি হন। সোমবার সকালে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালের গাইনি বিভাগের কনসালটেন্ট ডা. আরশেদ আলী তাকে শহরের টাউন হল রোডে অবস্থিত ‘সেন্ট্রাল হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে’ অপারেশনের পরামর্শ দেন।
আরশেদ আলীর পরামর্শে ওই নারীকে সেন্ট্রাল হসপিটালে ভর্তি করেন তার স্বজনরা। সন্ধ্যার দিকে ডা. আরশেদ আলী সেন্ট্রাল হসপিটালে ওই নারীর জরায়ু টিউমারের অপারেশন করেন। কিন্তু অপারেশন শেষে ওই নারীকে ওয়ার্ডে স্থানান্তর করার কয়েক ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও জরায়ুতে লাগানো ক্যাথেটার দিয়ে প্রস্রাব আসা বন্ধ থাকে। রাত প্রায় ১টা পর্যন্ত অপেক্ষা করলেও প্রস্রাবও বের হয়নি। এক পর্যায়ে আবারও ডা. আরশেদ আলীকে খবর দিলে তিনি হাসপাতালে গিয়ে ওই নারীর চিকিৎসা করেন। তার অবস্থার অবনতি ঘটলে মঙ্গলবার ভোরে তাকে সিলেটে রেফার্ড করা হয়। তবে ছাড়পত্রে কোনও সিল না থাকায় সিলেটের কোনও হাসপাতাল তাকে ভর্তি নেয়নি।
এ ব্যাপারে রোগীর ভাগ্নে মহিবুল ইসলাম শাহীন বলেন, 'ডা. আরশেদ আলী ও সেন্ট্রাল হসপিটাল কর্তৃপক্ষের ভুলের কারণে মৃত্যুর মুখে পড়েছে আমাদের রোগী। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ছাড়পত্রে সিল না দেওয়ার কারণে সিলেটের কোনও হাসপাতালই আমাদের রোগীকে ভর্তি নেয়নি।'
এ ব্যাপারে সেন্ট্রাল হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ম্যানেজার অসীম দেব বলেন, 'এই রোগীকে রিলিজ দেওয়ার সময় আমি ছিলাম না। তবে এখন আমরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে ওই নারীকে সিলেট নিয়ে যাচ্ছি এবং রোগীর জন্য যা করার প্রয়োজন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ করবে।'
এ বিষয়ে ডা. আরশেদ আলী বলেন, 'যাদের জরাযু নিচে নেমে গেছে, তাদের আমি বিনামূল্যে অপারেশন করে থাকি। ওই রোগীকে বিনামূল্যে জরায়ু অপারেশন করেছিলাম কিন্তু তার প্রস্রাবে সমস্য হওয়ার কারণে সিলেটে পাঠানো হয়েছে অন্য কিছু নয়। তার জরায়ু কেটে ফেলা হয়নি। সিলেটে ডায়ালিসেস করানো হবে, প্রয়োজনে উন্নত চিকিৎসা দেয়া হবে।