বছরের পর বছর স্বর্ণে কারচুপি!

২১ ক্যারেট বলে দেওয়া হয় ১৯ ক্যারেটমানিকগঞ্জ শহরের স্বর্ণকার পট্টিতে দীর্ঘদিন ধরে স্বর্ণ বিক্রির সময় ক্যারেটে প্রতারণার করা হচ্ছে। অবশেষে ক্রেতা সেজে হাতে-নাতে ধরা হয়েছে প্রতারকদের। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল ক্রেতা সেজে কয়েকটি জুয়েলার্সে অভিযান চালান এবং হাতে-নাতে কারসাজি ধরার পর জরিমানা করেন।স্বর্ণ বিক্রিতে কারচুপি

ক্রেতা সেজে বৃহস্পতিবার স্বর্ণকার পট্টির পাল জুয়েলার্স, প্রিয়াংকা জুয়েলার্স, রাজধানী জুয়েলার্স ও আহম্মদ জুয়েলার্সে যান ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল। এসময় তিনি কয়েকটি ২২ ক্যারেট ও ২১ ক্যারেটের আংটি নিতে চান। দাম বলার সময় সঠিক ক্যারেট আছে কিনা জানতে চান। ওই চারটি জুয়েলার্স তাকে স্বর্ণের গুণমান ও সঠিক ক্যারেটের ব্যাপারে  শতভাগ গ্যারান্টি দেয়। পরে নিজের পরিচয় দিয়ে ওই আংটিতে সঠিক ক্যারেটের স্বর্ণ যাচাইয়ের জন্য স্থানীয় স্বর্ণের ক্যারেট পরিমাপক প্রতিষ্ঠান হলমার্কে নিয়ে পরীক্ষার জন্য পাঠান। পরীক্ষা করে দেখা যায়, আংটিগুলোর কোনোটিতেই সঠিক ক্যারেটের স্বর্ণ নেই। ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের আংটিতে গুণগত মান সঠিক থাকলেও ২১ ক্যারেটের সবগুলো আংটিতে ১৯ ক্যারেট ছিল।স্বর্ণ বিক্রিতে কারচুপি

জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল জানান, জেলা প্রশাসক এসএম ফেরদৌসের নির্দেশনায় অভিযানটি পরিচালিত হয়। স্বর্ণের ক্যারেটে প্রতারণা করার দায়ে ভোক্তা অধিকার আইনের ৪৪ ও ৪৫ ধারা মোতাবেক মিথ্যা বিজ্ঞাপন দিয়ে ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণা করার দায়ে নিউ প্রিয়াংকা জুয়েলার্সকে ৭৫ হাজার টাকা, পাল জুয়েলার্সকে ৬০ হাজার টাকা, রাজধানী জুয়েলার্সকে ২০ হাজার  টাকা, আহম্মেদ  জুয়েলার্সকে ৩০হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ভবিষ্যতে ভোক্তাদের সঙ্গে এ ধরনের প্রতারণা করবে না মর্মে মুচলেকা দেয় জুয়েলার্স কর্তৃপক্ষ।