শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় স্মরণ

২২ বছরেও হয়নি রানার সম্পাদক মুকুল হত্যাকাণ্ডের বিচার

রানার সম্পাদক আর এম সাইফুল আলম মুকুল

শ্রদ্ধা আর ভালবাসায় পালিত হলো দৈনিক রানার সম্পাদক আরএম সাইফুল আলম মুকুলের ২২তম মৃত্যুবার্ষিকী। 

সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠন আজ রবিবার বেলা সাড়ে ১১টায় শহীদ সাংবাদিক মুকুলের স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধার্ঘ নিবেদন ও দোয়া-মাহফিলের মাধ্যমে তার রুহের মাগফেরাত কামনা করেছেন। 

১৯৯৮ সালের ৩০ আগস্ট রাতে রানার সম্পাদক সাইফুল আলম মুকুল দুর্বৃত্তদের বোমা হামলায় নিহত হন।

পরদিন নিহতের স্ত্রী হাফিজা আক্তার শিরিন কারও নাম উল্লেখ না করে যশোর কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

রানার সম্পাদক আর এম সাইফুল আলম মুকুলের ২২তম মৃত্যুবার্ষিকীতে সাংবাদিক সংগঠনগুলোর শ্রদ্ধাঞ্জলি।

হত্যাকাণ্ডের বিচার ২২ বছরেও শেষ হয়নি। এর মধ্যে এক যুগ ধরে নানান জটিলতা ও প্রতিবন্ধকতায় স্থবির আছে এ মামলার বিচারকাজ। এই প্রতিবন্ধকতা দূর করে মামলা সচল করার তেমন উদ্যোগও নেই রাষ্ট্রপক্ষের। আর তাই বিচার না হওয়ায় ক্ষুব্ধ সাইফুল আলম মুকুলের পরিবার ও যশোরের সাংবাদিক সমাজ। এ অবস্থায় আজ ৩০ আগস্ট বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে প্রয়াত সাংবাদিক মুকুলের ২২তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হচ্ছে। সকালে সাংবাদিকরা কালোব্যাজ ধারণ করেন। এরপর শোকর‌্যালি নিয়ে শহীদ সাংবাদিকের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। সেখানে প্রেসক্লাব যশোর, সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোর, সংবাদপত্র পরিষদ, যশোর সাংবাদিক ইউনিয়ন, জেলা সাংবাদিক ইউনিয়ন, ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, দৈনিক গ্রামের কাগজ, দৈনিক স্পন্দন পরিবারসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করা হয়। এরপর মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া অনুষ্ঠান পরিচালনা করা হয়। 

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৮ সালের ৩০ আগস্ট রাতে রানার সম্পাদক সাইফুল আলম মুকুল শহর থেকে বেজপাড়ার নিজ বাসভবনে যাওয়ার পথে চারখাম্বার মোড়ে দুর্বৃত্তদের বোমা হামলায় নিহত হন। পরদিন নিহতের স্ত্রী হাফিজা আক্তার শিরিন কারও নাম উল্লেখ না করে যশোর কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পরবর্তীতে তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি যশোর জোনের তৎকালীন এএসপি দুলাল উদ্দিন আকন্দ ১৯৯৯ সালের ২৩ এপ্রিল সাবেক মন্ত্রী (এখন প্রয়াত) তরিকুল ইসলামসহ ২২ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। এক পর্যায়ে আইনি জটিলতার কারণে মামলার কার্যক্রম থমকে পড়ে। আর এ কারণে চাঞ্চল্যকর এ মামলাটি হাইকোর্ট থেকে বাতিল করে দেওয়া হয়।

রানার সম্পাদক আর এম সাইফুল আলম মুকুলের ২২তম মৃত্যুবার্ষিকীতে সাংবাদিক সংগঠনগুলোর শ্রদ্ধাঞ্জলি

দীর্ঘদিন পর ২০০৫ সালে হাইকোর্টের একটি বিশেষ বেঞ্চ থেকে মুকুল হত্যা মামলা পুনরুজ্জীবিত করে বর্ধিত তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই বছরের ২১ ডিসেম্বর সিআইডি কর্মকর্তা মওলা বক্স নতুন দু’জনের নাম অন্তর্ভুক্ত করে আদালতে সম্পূরক চার্জশিট দেন। ২০০৬ সালের ১৫ জুন যশোরের স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল (৩) এবং অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে (২) ২২ জনকে অভিযুক্ত করে মুকুল হত্যা মামলার চার্জ গঠন করা হয়। এ সময় মামলা থেকে তৎকালীন মন্ত্রী তরিকুল ইসলাম ও রূপম নামে আরেক আসামিকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ২০১০ সালে মামলার ২৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয় যশোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ২য় আদালতে।

আদালত সূত্র জানায়, মুকুল হত্যা মামলা থেকে অব্যাহতি পেতে আসামি ইত্তেফাকের সাংবাদিক ফারাজী আজমল হোসেন হাইকোর্টের একটি বেঞ্চে আবেদন করেন। তিনি উচ্চ আদালতে যাওয়ায় ফের মুকুল হত্যা মামলার কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর এম ইদ্রীস আলী জানান, মুকুল হত্যা মামলার বিচারকাজ উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে বন্ধ রয়েছে। এই স্থগিতাদেশ নিষ্পত্তির পর বিচারকাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।