খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ধুনটে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ জনগোষ্ঠীর জন্য ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রয়েছে। ১৯ জন চিকিৎসকের স্থলে মাত্র ১০ জন রয়েছেন। তার মধ্যে অধিকাংশই কর্মস্থলে থাকেন না। কয়েকজন থাকলেও তারা ক্লিনিকে সেবা দিতে ব্যস্ত থাকেন। দুটি অপারেশন থিয়েটার থাকলেও চিকিৎসক ও জনবলের অভাবে দীর্ঘদিন বন্ধ রয়েছে। সরকারের মূল্যবান মেশিনপত্র ব্যবহার না হওয়ায় সেগুলো অকেজো হয়ে যাওয়ার সম্ভবনা দেখা দিয়েছে। এক্সরে মেশিন একদিনের জন্য চালু করা হয়নি। ইসিজি ও আলট্রাসনোগ্রাফি মেশিন থাকলেও জনবলের অভাবে দীর্ঘদিন বাক্সবন্দি হয়ে পড়ে আছে। ফলে জনগণ এসব সেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। জরুরি কোনও রোগী আসলেই তাকে জেলা সদরের হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।
আবার করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি থাকার কারণ দেখিয়ে কোনও রোগীকে দু’দিনের বেশি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে না রাখতে নির্দেশনা দিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাসানুল হাছিব। গত ২৬ আগস্ট ধুনট উপজেলার চৌকিবাড়ি গ্রামের শাহজাহান আলীর ছেলে শিক্ষক গোলাম মোস্তফা প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত হন। তাকে ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়। কিন্তু দু’দিনের মাথায় কর্তৃপক্ষ তাকে ছাড়পত্র দেন। এতে হতাশা প্রকাশ করেন শাহজাহান আলী। তিনি জানান, করোনাভাইরাস সংক্রমণের অজুহাতে চিকিৎসকরা তার গুরুতর অসুস্থ ছেলেকে ছাড়পত্র দিয়েছেন। প্রাইভেট ক্লিনিকে তার চিকিৎসা করানোর সামর্থ্য না থাকায় ছেলেকে বাড়িতে নিয়ে গেছেন।
এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডা. মিল্টন সরদার বলেন, ‘করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার নির্দেশে রোগীদের ছাড়পত্র দেওয়া হয়।’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাসানুল হাছিব বলেন, ‘হাসপাতালে বিভিন্ন রোগী আসে। ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে কেউ বাড়ি চলে যেতে চাইলে তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার মোহন্ত বলেন, ‘ধুনট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অনেক চিকিৎসক বেলা ১টার আগেই চলে যান। বিষয়টি স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে একাধিকবার অবগত করলেও তিনি কর্ণপাত করেননি।’ তিনি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সিভিল সার্জনসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন।