সংগঠনের জেলা সভাপতি ধনঞ্জয় বর্মণের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, বাসদ জেলা আহবায়ক কমরেড অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম পল্টু, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি শ্যামল বর্মন, জেলার দফতর সম্পাদক বিকাশ রায়, অর্থ সম্পাদক নিয়তি সরকার, স্কুল সম্পাদক আয়শা আক্তার রিতু বক্তব্য রাখেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, বগুড়া বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। আমরা অনতিবিলম্বে অভিযুক্ত শিক্ষকদের তদন্ত সাপেক্ষে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিদের জোর দাবি জানাচ্ছি। এছাড়া তদন্ত প্রশ্নবিদ্ধ না করতে কমিটি থেকে অধ্যক্ষকে প্রত্যাহারের দাবি করছি।
গত ২৬ আগস্ট সাবেক এক ছাত্রী যৌন নির্যাতনের অভিযোগ করেন। অধ্যক্ষ প্রতিষ্ঠানের সুনামের কথা বলে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে অভিযুক্ত শিক্ষকরা ছাত্রী ও তার পরিবারকে নানাভাবে হুমকি দেওয়া শুরু করে। বক্তারা ছাত্রী নির্যাতনকারী বাংলা বিভাগের প্রভাষক আবদুল্লাহ আল মাহমুদ ও ইংরেজির প্রভাষক আবদুল মোত্তালিবের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
তবে ওই ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ থাকার পরেও তদন্ত কমিটিতে অধ্যক্ষকে রাখায় অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। তদন্ত কমিটি থেকে অধ্যক্ষকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
বক্তারা আরও বলেন, দেশের বেসরকারি স্কুল-কলেজগুলোতে চলছে কোটি কোটি টাকার শিক্ষা ও ভর্তি বাণিজ্য। করোনাকালে স্কুল-কলেজ যখন বন্ধ, অভিভাবকদের আয় বন্ধ, তখনও মাসিক বেতনসহ অন্যান্য বেতনের বোঝা অভিভাবকদের টানতে হচ্ছে। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মানবিক মূল্যবোধহীন বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান হয়ে দাঁড়িয়েছে। করোনাকালে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বেতন ফি মওকুফ এবং বগুড়া বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রীদের যৌন নির্যাতনের দায়ে অভিযুক্ত শিক্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানান তারা।