জেন্টেলের খুনির মৃত্যুদণ্ড, দুইজনের যাবজ্জীবন

আদালত

জেন্টেল কতটা জেন্টেলম্যান ছিলেন এখন আর তা জানা যায় না। তবে তাকে হত্যার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় হত্যাকারী হিসেবে চিহ্নিত আসামির মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেছেন আদালত। একইসঙ্গে অপর দুই সহযোগীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন তিনি। এ মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ৩ জনকে খালাস দিয়েছেন আদালত। 

রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় দিনাজপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-২ আদালতের বিচারক আনোয়ারুল হক এই রায় ঘোষণা করেন।

দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলায় পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে জেন্টেল নামের এক ব্যক্তিকে ৮ বছর আগে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের মামলায় এ রায় ঘোষণা করেন বিচারক।

রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন জেলার বোচাগঞ্জ উপজেলার মুর্শিদহাট গরুহাটি এলাকার মৃত আফিজুল টিকরীর ছেলে আক্কাছ আলী ওরফে আলতু। এছাড়াও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি হলেন বোচাগঞ্জ উপজেলার ধনতলা দফাদারপাড়ার মৃত নেফাজ উদ্দীনের ছেলে রিয়াজুল ইসলাম ওরফে মশা ও একই উপজেলার মুর্শিদহাট হাজীপাড়ার আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে মো. সোহেল। এছাড়াও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে এক লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

দিনাজপুরে কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক ইসরাইল হোসেন জানান, নিহত ও আটক আসামিদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক দ্বন্দ্ব ছিল। ২০১২ সালের ১৪ জুলাই বোচাগঞ্জ উপজেলার মুর্শিদহাট এলাকার আব্দুর রহমানের ছেলে মশিউর রহমান জেন্টেলকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। পরদিন ১৫ জুলাই নিহতের পিতা আব্দুর রহমান বাদী হয়ে ৭ জনের বিরুদ্ধে বোচাগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। বিচার চলাকালীন সময়ে মামলার এক আসামি মারা যান।

রবিবার দুপুরে বিচারক সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে একজনের মৃত্যুদণ্ড ও দুইজনের যাবজ্জীবন কারাদনণ্ডের আদেশ প্রদান করেন। অপরদিকে মামলার অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় একই এলাকার রেজাউল ইসলাম, মো. রুবেল ও রুমানা আক্তারকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।

মামলাটি রাষ্ট্রপক্ষে পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) মেহেরুল ইসলাম ও বাদী পক্ষে ইমামুল হক।