খোঁজ নিয়ে জানা যায়, একদিন আগেও বন্দরে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৩২-৩৩ টাকা বিক্রি হলেও, এখন ৩৭-৩৮ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ভারতীয় কাঁচা মরিচ ৯০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) তা বিক্রি হয়েছে ১০৫ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে।
বন্দরের পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারতে বন্যার কারণে পেঁয়াজের উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। এ কারণে বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি কম হচ্ছে। যেখানে বন্দর দিয়ে প্রতিদিন ৪০/৫০ ট্রাক পেঁয়াজ আমদানি হতো, বর্তমানে তা কমে ২০/২৫ ট্রাক আমদানি হচ্ছে। কাঁচামাল আমদানি বেশি হলে দাম কমবে, আর আমদানি কম হলে দাম বাড়বে এটাই নিয়ম। একইভাবে দেশীয় পেঁয়াজের সরবরাহ কম থাকায় আমদানি পেঁয়াজের দাম বাড়ছে।
হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারক বাবলুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, দুই সপ্তাহ আগে স্থলবন্দরে পেঁয়াজের বাজার ছিল ১৮/২২ টাকা। কিন্তু দুই সপ্তাহ পর থেকে পেঁয়াজের দাম বাড়তির দিকে রয়েছে। এর প্রধান কারণ ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে বন্যা। এ জন্য ভারতের বাজারেই পেঁয়াজের সরবরাহ কমে গেছে, তাই দাম বেড়েছে। আগে যেখানে পেঁয়াজ কিনতে হতো ৭/৮ রুপি, তা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ রুপি। এরসঙ্গে কেজিপ্রতি পরিবহন খরচ রয়েছে ৬ রুপি ও ট্যাক্সসহ অন্যান্য খরচ। সব মিলিয়ে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ২৭/২৮ রুপি করে কিনতে হচ্ছে। এ কারণে আমাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
তিনি জানান, গতকাল বন্দর দিয়ে ১৬ ট্রাকে ১০৫ টন কাঁচা মরিচ আমদানি হয়েছে। যেখানে আগের দিন বন্দর দিয়ে ৩০ ট্রাকে ১৯১ টন কাঁচা মরিচ আমদানি হয়।
বাজারের অস্থিতিশীল অবস্থার বিষয়ে হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুর রাফিউল আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, হিলি স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিনিয়ত পেঁয়াজসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ভারত থেকে আমদানি করা হয়ে থাকে। সে কারণেই পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে হাকিমপুর উপজেলা প্রশাসন মনিটরিং বাড়িয়েছে। ইতোমধ্যে বন্দরের আমদানিকারকদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তাদের সিন্ডিকেট করে পেঁয়াজসহ অন্যান্য পণ্যের দাম না বাড়ানোর জন্য বলা হয়েছে। তারা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন স্বাভাবিক সময়ে যেভাবে পেঁয়াজ বিক্রি করেন সেভাবেই করবেন। কেউ অসদুপায় অবলম্বন করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।