সবুজ মাল্টার হাজার বাগান

119062821_347781599704845_6268814039523430683_n

পিরোজপুর জেলায় দিন দিন বাড়ছে মাল্টা চাষ। প্রাথমিকভাবে সফল চাষিদের দেখে মাল্টা চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন পাঁচ থেকে ছয়শ' চাষি। এই জেলার সবুজ রঙের মাল্টা ইতোমধ্যে পরিচিতি পেয়েছে সারাদেশে। কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, বিদেশি এই ফলের চাহিদা মেটাতে অতীতে আমদানির ওপর নির্ভর করতে হতো। কিন্তু এখন এই জেলায় উৎপাদিত মাল্টা রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকার চাহিদা পূরণ করছে এবং এখানকার মাটি মাল্টা চাষের উপযোগী হওয়ায় প্রতি বছরই বাড়ছে কৃষি জমির পরিমাণ।

জেলা কৃষি অফিসের তথ্য সূত্রে জানা গেছে- পিরোজপুর সদর, নাজিরপুর, মঠবাড়িয়া, কাউখালীসহ এই জেলায় এখন ৯৫০টি মাল্টা বাগান রয়েছ। সবুজ মাল্টা চাষাবাদের জমির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১২৫ হেক্টরেরও বেশি।

119178203_3362315597327282_4076269934385528958_n

পিরোজপুরের সাবেক উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জগত প্রিয় দাস বিষু জানান, কয়েক বছর আগে সদর উপজেলার দূর্ঘাপুর ইউনিয়নের অমলেশ রায় দেড় একর জমিতে মাল্টা চাষ শুরু করেন। এখন তার দেখাদেখি অনেকে এর চাষ করছেন। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় এর বিস্তৃতি ঘটছে। দোকানে বিদেশি ফলের সঙ্গে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত এই ফলটিও বিক্রি হচ্ছে অনেক। শহরের খাদ্য সচেতন মানুষের কাছে এই ফলের বেশ কদর আছে। তাজা, বিষমুক্ত, সুমিষ্টি লেবু জাতীয় ফলের কদর বিদেশ থেকে আনা কমলা, মাল্টা, ডালিমের সঙ্গে বেশ পাল্লা দিয়েই বেড়ে চলছে। ক্রেতা-দোকানির কাছে আমদানি করা হলদে রঙের চেয়ে এই জেলার সবুজ মাল্টার কদর বেশি।

পিরোজপুর সদরের মাল্টা চাষি আবু জালাল জানান, বিভিন্ন কৃষি পণ্যের থেকে মাল্টা চাষে খরচ কম ও কম খাটুনিতে বেশি লাভ পাওয়া যাচ্ছে। মাল্টা বাগান থেকে ব্যবসায়ীরা প্রতি কেজি পাইকারি দরে ৬০-৮০ টাকায় কিনে বাজারে ১২০ টাকা কেজি বিক্রি করছেন।

119102298_357127662338483_5238382929355934121_n

পিরোজপুর সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা শিপন চন্দ্র ঘোষ জানান, কয়েক বছর আগেও স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ফলের মধ্যে পেয়ারা ও আমড়ার নাম ছিল শীর্ষে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকায় ফল দুটির ব্যপক চাহিদা ছিল। মাত্র চার বছরে গুটিকয়েক ফলচাষি কৃষি বিভাগের সহায়তা নিয়ে এই জেলার সম্ভাবনাময় মাল্টার পরিচিতি পান। এখানে দোআঁশ মাটি মাল্টা চাষে উপযোগী, স্থানীয় কৃষকদের তা জানা ছিল না। প্রথমে শখের বশে কেউ কেউ মাল্টা বাগান করতেন। বর্তমানে জেলায় প্রায় ৯৫০টি মাল্টা বাগান রয়েছে।

তিনি আরও জানান, মাল্টা চাষে সার্বিক উন্নায়নে জেলা-উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা বিভিন্ন পদক্ষেপ ও কৃষকদের চারা, সার ও পরামর্শ দেওয়ায় গত বছরের চেয়ে এবছর মাল্টার বাগান বৃদ্ধি পেয়েছে। এদিকে ভবিষ্যতেও কৃষকদের সব রকমের সহযোগিতা করার কথা জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বশির আহমেদ।