সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ভারতের বৈদেশিক বাণিজ্য অধিদফতরের ডিরেক্টর জেনারেল অমিত ইয়াদব স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে পেঁয়াজ রফতানির বন্ধের তথ্য জানানো হয়। রাতে ভারতীয় রফতানিকারকদের মাধ্যমে প্রজ্ঞাপনটি বাংলাদেশি পেঁয়াজ ব্যবসায়ীদের হাতে এসে পৌঁছায়। এদিকে সকাল থেকেই বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয় ভারত।
হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রফতানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশীদ হারুন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, দেশের বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ও মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে বেশ কিছুদিন ধরেই পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত ছিল। হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারকরা ব্যাপক পরিমাণে পেঁয়াজ আমদানি করেছিলো। সম্প্রতি পেঁয়াজের দাম নিয়ে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় দেশের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমদানিকারকরা প্রচুর পরিমানে পেঁয়াজের এলসি খোলেন। কিন্তু হঠাৎ করে ভারত সরকার তাদের অভ্যন্তরীণ সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দিয়েছে। এতে করে আমরা আমদানিকারকরা পড়েছি মহাবিপদে।
তিনি অভিযোগ করেন, ভারত সরকার প্রতিবছরই কোনও কিছুু না জানিয়ে হঠাৎ করে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। তাদের এই সিন্ধান্তের ফলে আমাদের শুধুমাত্র হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারকদের ১০ হাজার টনের মতো পেঁয়াজের এলসি দেওয়া রয়েছে, যার বিপরীতে আড়াইশো ট্রাক পেঁয়াজ নিয়ে দেশে প্রবেশের অপেক্ষায় পাইপলাইনে রয়েছে। এইসব পেঁয়াজগুলো রফতানি না হলে তাতে পচন ধরে নষ্ট হবে। আর লোকশান গুনতে হবে আমাদের।
আন্তর্জাতিক আমদানি রফতানি নিয়ম অনুযায়ী যে পণ্যের এলসি খোলা হবে, এলসি রিসিভ করবে সেই পণ্যটা তাদের দিতেই হবে। কিন্তু বার বার তারা এলসি খোলার পরেও পণ্য আটকে দেয়। তিনি এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
এদিকে বেনাপোল প্রতিনিধি জানান, সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) থেকে বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয় ভারত। ফলে বেনাপোলের ওপারের পেট্রাপোলে আটকে পড়ে পেঁয়াজ ভর্তি প্রায় শতাধিক ট্রাক। একই অবস্থা ভোমরা বন্দরেও। সকাল থেকে বেনাপোল ও ভোমরা বন্দর দিয়ে কোনও পেঁয়াজের গাড়ি বাংলাদেশে প্রবেশ করেনি।
ভারতের পেট্রাপোলের একটি সূত্র জানায়, দেশের সব বন্দর দিয়ে বাংলাদেশে পেঁয়াজের রফতানি বন্ধ রয়েছে। বেনাপোল বন্দর দিয়ে সকালের দিকে ৫০ মে.টন পেঁয়াজ ঢোকার পরপরই দেশের সবগুলো বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ হয়ে যায়।