তবে ব্যবসায়ীদের দাবি, হুট করে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেওয়ায় বিভিন্ন বন্দর দিয়ে প্রবেশের অপেক্ষায় থাকা পেঁয়াজের ট্রাক ভারতের অভ্যন্তরে আটকা পড়েছে। হিলি বন্দর দিয়ে আমদানি বন্ধ করে দেওয়ায় ভারতের অভ্যন্তরে আটকা পড়েছে ২৫০ পেঁয়াজবাহী ট্রাক। অপরদিকে আরও ১০ হাজার টনের মতো এলসি পড়ে রয়েছে। অন্যদিকে সোনামসজিদ বন্দর দিয়ে আসার পথে ভারতের মোহদীপুরে প্রায় ২০০ ট্রাক পেঁয়াজ আটকা পড়েছে। এতে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে হবে আমদানিকারকদের।
এ অবস্থায় পেঁয়াজের দাম স্বাভাবিক রাখতে পর্যাপ্ত মনিটরিং, অভিযান ও অন্য দেশ থেকে পেঁয়াজ আনার দ্রুত ব্যবস্থা নিতে ভোক্তা ও ব্যবসায়ীরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
হিলি স্থলবন্দরের আড়ত থেকে পেঁয়াজ কিনতে আসা রফিকুল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গতকালই (সোমবার) হিলি থেকে পেঁয়াজ কিনে নিয়ে গেলাম ৩৪-৩৫ টাকায়। একদিন পরেই আজ কিনতে এসে দেখি দাম দ্বিগুন হয়ে গেছে। ঘণ্টায় ঘণ্টায় বাড়ছে পেঁয়াজের দাম। যে পেঁয়াজের ছাল নেই পঁচে গেছে, সেই পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৫২ টাকা করে। আর একটু ভালোটা বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে। ৬০ টাকা দাম শুনে ঘর থেকে ঘুরে আসতেই তা বেড়ে ৬৫/৭০ টাকা হয়ে যাচ্ছে। তার পরেও বলছে নিলে নেও না হলে চলে যাও। এমন দাম বাড়ার ফলে আমরা খুচরা বিক্রেতারা পেঁয়াজ কিনতে এসে বিপাকের মধ্যে পড়ে গেছি।’
হিলি বাজরে পেঁয়াজ কিনতে আসা নুরে আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, যে যার মতো পেঁয়াজের দাম বাড়াচ্ছে, ‘কোনও নজরদারি নেই। একেতো করোনা কালে আমাদের ইনকাম তেমন নেই, এর ওপর এভাবে দাম বাড়লে আমাদের তো পেঁয়াজ বিক্রি ও খাওয়া ছেড়ে দিতে হবে।’
হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রফতানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশীদ হারুন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সম্প্রতি দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম নিয়ে অস্থিতিশীল অবস্থা ও ঊর্ধ্বমূল্য ঘিরে ব্যাপক পরিমাণে পেঁয়াজ আমদানি করে দেশের বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে সব আমদানিকারকগণ বেশ পরিমাণে এলসি খুলেছিলো। কিন্তু ভারত সরকার অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম বাড়ার কারণে রফতানি বন্ধ করে দিয়েছে। এতে করে দেশে প্রবেশের অপেক্ষায় ভারতের অভ্যন্তরে আটকা পড়েছে ২৫০ পেঁয়াজবাহী ট্রাক। অপরদিকে আরও ১০ হাজার টনের মতো এলসি পড়ে রয়েছে। এ কারণে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। তারা প্রতিবছর এইভাবে হঠাৎ করে কোনও কিছু না জানিয়ে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয়, এ বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। একইসঙ্গে দেশের বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ও দাম নাগালের মধ্যে রাখতে ইতোমধ্যে আমরা পাকিস্তান, তুরস্ক, মিয়ানমারসহ বিভিন্ন দেশে এলসি খুলেছি। আগামী ১৫-২০ দিনের মধ্যে পেঁয়াজ চলে আসবে, তাতে দাম নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।
সোনামসজিদ স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মেসবাহুল হক মেসবা জানান, ‘গতকাল বন্দরে ৪৪টি ভারতীয় পেঁয়াজের গাড়ি প্রবেশ করলেও; আজ কোনও পেঁয়াজের গাড়ি প্রবেশ করেনি।’
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক জহিরুল ইসলাম বলেন, দুপুরে জেলার শিবগঞ্জে মূল্য তালিকা না থাকা, মেয়াদোত্তীর্ণ ও অতিরিক্ত মূল্যে পণ্য ও পেঁয়াজ বিক্রয় এবং রশিদ না দেওয়ার অভিযোগে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে ২৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। কেউ যাতে রফতানি বন্ধের অজুহাতে অতিরিক্ত দামে পেঁয়াজ বিক্রি করতে না পারে, সেজন্য অভিযান অব্যাহত থাকবে।