রড দিয়ে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে দেওয়া অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মৃত্যু

ঠাকুরগাঁওস্বামীর রডের আঘাতে চার হাত-পা ভেঙে যাওয়া ঠাকুরগাঁওয়ের এক গৃহবধূ ১৩ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছেন। এ কথা নিশ্চিত করেছেন সদর থানার ওসি তানভিরুল ইসলাম। পারভিন আক্তার (২৪) বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মারা যান।

নিহত পারভিন জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড়বাড়ী ইউনিয়নের মালঞ্চা গ্রামের শফিকুল ইসলামের মেয়ে। তিনি সদর উপজেলার রহিমানপুর ইউনিয়নের পল্লীবিদ্যুৎ এলাকার নূর ইসলামের স্ত্রী।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর শুক্রবার তার স্বামী নূর ইসলাম তাকে পিটিয়ে তার চার হাত-পা ভেঙে দেন। এ ঘটনায় ঠাকুরগাঁও থানায় মামলা করেন পারভিনের বাবা। সেই মামলায় নূর ইসলাম গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে জেল হাজতে রয়েছেন।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, নূর ইসলাম তার স্ত্রীকে ঘরের দরজা ভেতর থেকে তালা দিয়ে বন্ধ করে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে দুই হাত ও দুই পা ভেঙে দেয়। পরে পরিবারের লোকজন দরজা ভেঙে পারভিনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য পারভিনকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পারভিন ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।

নূর ইসলামের বিরুদ্ধে তার বাবা শফিকুল ইসলাম হত্যাচেষ্টার মামলা করেছিলেন। সেটা এখন হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হবে বলে জানান ওসি তানভিরুল ইসলাম।

সদর হাসপাতালে  চিকিৎসাধীন অবস্থায় পারভিন পুলিশকে জানিয়েছিলেন, প্রায় আট মাস আগে নূর ইসলামের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই নূর ইসলাম প্রায়ই নেশা করে বাড়ি ফিরে তাকে মারপিট করতো। বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর)  বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার মালঞ্চা গ্রামে বাবার বাড়িতে বেড়াতে যান পারভিন। শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকালে বাবার বাড়ি থেকে ফিরে আসেন। বাড়িতে এসে দেখেন সে নেশা করে মাতাল অবস্থায় রয়েছে। তার কাছে যাওয়া মাত্রই সে পারভিনকে চড়-থাপ্পড় মারতে শুরু করে। একপর্যায়ে সে ঘরের দরজা ভেতর থেকে তালা দিয়ে বন্ধ করে দেয়। এরপর ঘরে থাকা একটি লোহার রড দিয়ে পারভিনের দুই হাত ও দুই পায়ে আঘাত করে ভেঙে দেয়।