খালাস পাওয়া চার আসামির ব্যাপারে যা বলা হয়েছিল চার্জশিটে

রিফাত হত্যা মামলা-১

বরগুনার আলোচিত শাহনেওয়াজ রিফাত ওরফে রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় প্রাপ্ত বয়স্ক ১০ আসামির ব্যাপারে রায় দিয়েছেন বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালত। রায়ে রিফাতের স্ত্রী মিন্নিসহ ছয় জনকে মৃত্যুদণ্ড ও চার জনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
বিচারিক কার্যক্রমের আগে পুলিশ প্রতিবেদনে এই খালাস পাওয়া আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ এনে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছিল। সেই চার আসামি হলো- মো. মুসা ওরফে মুসা বন্ড, রাফিউল ইসলাম রাব্বি, মো. সাগর, কামরুল ইসলাম সায়মুন। তবে রায়ের আলোচনায় বিচারক বলেছেন, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।

মো. মুসা ওরফে মুসা বন্ড:

মুসা 'বন্ড ০০৭' গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম। রিফাত ফরাজী ও নয়ন বন্ডের অন্যতম প্রধান সহচর। মুসা এলাকায় মাদক বিক্রি ও সেবনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিল। রিফাত শরীফ হত্যা মামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী এই মুসা। নয়ন বন্ড এর কাছ থেকে রিফাত শরীফকে হত্যার পরিকল্পনার বিষয়ে অবগত হয় মুসা। রিফাত শরীফ যাতে পূর্ব দিকে পালাতে না পারে সেজন্য পরিকল্পনা অনুযায়ী অবস্থান নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে সে। মুসার নামে বরগুনা সদর থানায় একটি মাদক ও একটি অস্ত্র আইনের মামলা রয়েছে। মুসা বরগুনা পৌর শহরের ধানসিড়ি রোড এলাকার মো. কালাম খানের ছেলে। প্রাপ্ত বয়স্ক আসামিদের মধ্যে একমাত্র মুসাই এখনও পলাতক রয়েছে।

রাফিউল ইসলাম রাব্বি:

রাফিউল ইসলাম রাব্বি রিফাত হত্যা মামলায় প্রত্যক্ষভাবে অংশ নেওয়া নয়ন বন্ড, রিফাত ফরাজী ও মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাতের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। হত্যাকাণ্ডের সময় সরাসরি অংশ না নিলেও বিষয়টি জেনেও আসামি মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাতকে আশ্রয় ও পালাতে সহযোগিতা করে রাব্বি। রাফিউল ইসলাম রাব্বি বরগুনা সদর উপজেলার ৯ নম্বর ইউনিয়নের উরবুনিয়া গ্রামের মো. আ. রহমানের ছেলে।

মো. সাগর:

মো. সাগর আসামি রিফাত ফরাজী ও নয়ন বন্ডের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। এছাড়া 'বন্ড ০০৭' মেসেঞ্জার গ্রুপেরও একজন সক্রিয় সদস্য। পুলিশ চার্জশিটে তাকে হত্যায় প্ররোচনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত করেছে। কারণ হত্যার দিন 'সবাইকে কলেজে দেখতে চাই' রিফাত ফরাজীর এমন পোস্টের পর তার নিচে সাগর বিজয়সূচক চিহ্ন দিয়েছিল। এছাড়াও হত্যার পরিকল্পনা সম্পর্কে সে ওয়াকিবহাল ছিল। সাগর বরগুনা সদর উপজেলার ৯ নম্বর ইউনিয়নের নলী মাইঠা গ্রামের মো. আবদুল লতিফ খানের ছেলে। সাগরের নামে বরগুনা ও বরিশালে দুটি মামলা রয়েছে।

কামরুল ইসলাম সায়মুন:

কামরুল ইসলাম সায়মুন আসামি নয়ন বন্ড, রিফাত ফরাজী ও রাব্বি আকনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নিয়ে রিফাত শরীফকে হত্যা করার বিষয়টি জেনেও তার নিজের ব্যবহৃত এফজেড মটোর সাইকেল দিয়ে পালাতে সহায়তা করার অভিযোগ তোলা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। সায়মুন বরগুনা পৌর শহরের ডিশ ব্যবসায়ী কাওসার আহমেদ লিটনের ছেলে।

তবে এই চার আসামির বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি বলে রায়ের আলোচনায় বলেছেন বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আছাদুজ্জামান।