নৌকাডুবির ৯ দিন পর ভেসে উঠলো ভাই-বোনের লাশ

সাদিয়া ইসলাম সূচনা ও তার ফুপাতো ভাই রিমনরাজশাহীর পদ্মা নদীতে নৌকাডুবিতে নিখোঁজ হওয়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী সাদিয়া ইসলাম সূচনা ও তার ফুপাতো ভাই রিমনের লাশ পাওয়া গেছে। ঘটনার ৯ দিন পর শনিবার (৩ অক্টোবর) ভোরে ঘটনাস্থলেই তাদের লাশ ভেসে ওঠে।

এর আগে গত ২৫ সেপ্টেম্বর বিকালে রাজশাহী নগরীর নবগঙ্গা এলাকায় মাঝি ও ১২ জন যাত্রী নিয়ে ওই নৌকাটি ডুবে যায়। এরপর স্থানীয়রা মাঝিসহ ১১ জনকে উদ্ধার করলেও দুই ভাই-বোন নিখোঁজ ছিল।

দুই দিন উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে অভিযান সমাপ্ত করে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। কিন্তু স্বজনরা পদ্মা ছেড়ে আসেননি। তারা ঘটনার পর থেকেই পদ্মার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে নিখোঁজদের অন্তত লাশ দুটি খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। শনিবার ভোরে তারা ঘটনাস্থলেই লাশ দুটি ভাসতে দেখেন।

ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের রাজশাহীর উপসহকারী পরিচালক জাকির হোসেন বলেন, ‘হয়তো লাশ দুটি কোনও কিছুর নিচে চাপা পড়ে ছিল। সে কারণে খুঁজে পাওয়া যায়নি, ভেসেও ওঠেনি। তা না হলে ডুবে যাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই লাশ ভেসে ওঠে। কিন্তু এক্ষেত্রে ৯দিন সময় লাগলো।’

তিনি বলেন, স্বজনরা লাশ পাওয়ার পর পুলিশের সহায়তায় তারা লাশ রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের মর্গে নিয়ে গেছেন। সেখানে ময়নাতদন্তের পর লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

মৃত সাদিয়া ঢাকার আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের (এআইইউবি) বিবিএ তৃতীয় সেমিস্টারের ছাত্রী ছিলেন। তিনি ঢাকার ধানমন্ডি এলাকায় বসবাস করেন। আর মৃত রিমনের বাড়ি নওগাঁ। সে অষ্টম শ্রেণির ছাত্র ছিল। তারা রাজশাহীর পবা উপজেলার খোলাবোনা এলাকায় চাচা জালাল উদ্দিনের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল। এরপর নৌকাভ্রমণে পদ্মায় গিয়েছিল তারা।

নৌকাডুবির ঘটনায় দামকুড়া থানায় রাজশাহী নৌ-পুলিশের পক্ষ থেকে নৌকার দুই মালিকসহ তিন জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। নৌকায় লাইফজ্যাকেট না থাকায় তাদের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ আনা হয়েছে। নৌ-পুলিশই মামলাটির তদন্ত করছে। তবে এ ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি।