গাইবান্ধার সাত উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত

Screenshot_20201003-165323_MX Player

টানা বর্ষণ আর উজানের পানিতে তলিয়ে গেছে গাইবান্ধার সাত উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা। পানির নিচে এখন শহর-গ্রাম, হাসপাতাল-মহাসড়ক। ডুবে গেছে ফসলের মাঠ। পানিতে ভেসে গেছে পুকুর ও খামারের মাছ। সুন্দরগঞ্জের বামনডাঙ্গা ও পলাশবাড়ীর কিশোরগাড়ী ইউনিয়নে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে গেছে। সবমিলিয়ে গাইবান্ধায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে জেলার সাত উপজেলার চরাঞ্চল ও নিম্নঞ্চলের অন্তত দুই লাখ মানুষ।
এদিকে, ঢাকা-দিনাজপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের তিনটি অংশ বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়ায় গোবিন্দগঞ্জ থানা মোড় এলাকা থেকে দিনাজপুর সড়কে ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে বন্যার পানি ওঠায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা।

Screenshot_20201003-165300_MX Player

অপরদিকে, ঘাঘট নদীর অব্যাহত পানি বৃদ্ধির ফলে ধসে যাচ্ছে জেলার সাদুল্লাপুর উপজেলার জামুডাঙ্গা গ্রামের ব্রিজের সংযোগ সড়ক। যে কোনও মুহূর্তে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নের আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান জানান, শুক্রবারের তুলনায় পানি অনেকটা কমতে শুরু করেছে। করতোয়া নদীর পানি কমে ১১১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়, যা গতকাল ১১৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিলো। এছাড়া ঘাঘটের পানি ২৬ সেন্টিসিটার থেকে কমে ২১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তার পানি কমে ২০ ও ২৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

জেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চলতি বন্যায় জেলায় এক হাজার হেক্টর জমির আমন ধানসহ রবিশস্য পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া পানিতে পঁচে গেছে অর্ধ শতাধিক সবজি ক্ষেত। ভেসে গেছে বহু মৎস্য খামার।

জেলা প্রশাসক আব্দুল মতিন বলেন, 'সব সময় বন্যার্তদের খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে। চারটি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। চাল, ডাল, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানিসহ নগদ টাকা বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'