টনসিল অপারেশন করাতে অপারেশন টেবিলে শুয়েছিল ১০ বছরের শিশুটি। তার সফল অপারেশন নাকি হয়েছে। কিন্তু অবেদন (অ্যানেসথেশিয়া) করার পর তার আর জ্ঞান ফেরেনি। পরিবারের দাবি, চিকিৎসকের ভুলে শিশু ইসমাইল হোসেন অকালে প্রাণ হারিয়েছে। তবে যিনি অপারেশন করেছেন এবং যিনি অবেদক তাদের কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সিরাজগঞ্জ শহরের সয়াধানগড়া জগাই মোড়ে অবস্থিত আলহেরা জেনারেল হাসপাতালে শনিবার (৩ অক্টোবর) শিশুটির টনসিল অপারেশন করাতে গিয়ে এ দশা হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্বজনরা বিক্ষুব্ধ হয়ে শনিবার রাতে হাসপাতালটি ভাঙচুর করেন। খবর পেয়ে পুলিশ রাতে ওই হাসপাতালে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে এবং শিশুটির লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে রবিবার (৪ অক্টোবর) দুপুরে শিশুটির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।
নিহত ইসমাইল এনায়েতপুরের সোনাতলার বাবু সরকারের ছেলে।
ইসমাইলের বাবা বাবু সরকার বলেন, ‘আমার ছেলের টনসিলের সমস্যা ছিল। ডা. ডি এম আকরাম হোসেন ও ডা.সুমুনুল হক রাজিব মিলে শিশুটিকে অপারেশন করেন। পরে ছেলের আর জ্ঞান ফেরেনি। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাকে বলেন সে মারা গেছে।’
সদর থানার ইন্সপেক্টর (অপারেশন) নুরুল ইসলাম বলেন, ভুল চিকিৎসায় শিশুর মৃত্যুর অভিযোগে হাসপাতালে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। সেখানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও শিশুটির লাশ উদ্ধার করে রাতে মর্গে পাঠানো হলেও রবিবার বিকেল পর্যন্ত কেউই থানায় অভিযোগ দেননি।
ওই অপারেশনে অবেদন চিকিৎসক (অ্যানেসথেশিস্ট) ছিলেন ডা. সুমুনুল হক রাজিব। এ বিষয়ে জানতে তার মুঠোফোনে বারবার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
অপারেশনকারী চিকিৎসক ডা. ডি এম আকরাম হোসেনেরও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সিভিল সার্জন ডা. জাহিদুল ইসলাম বলেন, অপারেশন টেবিলে শিশুটি মারা গেছে বলে পরস্পর শুনেছি। ময়নাতদন্তও হয়েছে। নিহতদের স্বজনদের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আলহেরা জেনারেল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামীম রেজা জানান, ‘ডি এম আকরাম হোসেন রোগীর অপারেশন করেন। সুমুনুল হক রাজিব শিশুটিকে অজ্ঞান করেন। অপারেশন সাকসেসফুল হলেও শিশুটি রিভার্স (জ্ঞান ফেরা) করতে পারেনি।’