স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতি তদন্তে চট্টগ্রামে মাঠে নেমেছে দুদক

দুদকস্বাস্থ্য খাতের অনিয়ম-দুর্নীতি তদন্তে চট্টগ্রামে মাঠে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সরকারি হাসপাতালের টেন্ডার কারা নিয়ন্ত্রণ করে, হাসপাতালে টেন্ডারবাজি, বদলি, নিয়োগ বাণিজ্যের সঙ্গে কারা জড়িত, বেসরকারি হাসপাতাল কারা পরিচালনা করছেন, ওইসব হাসপাতাল ও ক্লিনিকের যাবতীয় কাগজপত্র ঠিক আছে কিনা এসব বিষয় তদন্তে নগরীর সরকারি-বেসরকারি একাধিক হাসপাতালকে চিঠি দিয়েছে দুদক।

এ সম্পর্কে জানতে চাইলে দুদক সমন্বিত কার্যালয় চট্টগ্রাম-২-এর সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘চলতি বছরের শুরুর দিকে চট্টগ্রামের এক চিকিৎসক নেতার বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য খাতকে পুঁজি করে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ জমা পড়ে। পরে তা যাচাই-বাছাই শেষে গত ২৬ আগস্ট দুদক প্রধান কার্যালয় থেকে চিঠি পাঠিয়ে অভিযোগ তদন্তে আমাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। চিঠি পাওয়ার পর স্বাস্থ্য খাতের অনিয়মের তথ্য অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে আমি কাজ শুরু করেছি। গত কয়েকদিনে চট্টগ্রাম নগরীর দুটি সরকারি হাসপাতাল এবং আরও বেশ কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতালকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে স্বাস্থ্য খাতের নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত এমন একজনকে সামনে রেখে তথ্য অনুসন্ধান শুরু করলেও পর্যায়ক্রমে আমরা এই খাতের সব অনিয়ম-দুনীর্তির তথ্য অনুসন্ধান করবো। অনুসন্ধান শেষে আরও অনেকের নাম আসতে পারে। অনুসন্ধান করতে গিয়ে যাদের সম্পৃক্ততা পাবো, সবাইকে তদন্ত প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হবে। স্বাস্থ্য খাতের রাঘববোয়াল কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।’

স্বাস্থ্য খাতের নানা অনিয়ম নিয়ে আলোচিত চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. ফয়সল ইকবাল চৌধুরীর বিরুদ্ধে আনা জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তদন্তের অংশ হিসেবে এসব হাসপাতালে চিঠি দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে দুদক কার্যালয়ের একটি সূত্র। ডা. ফয়সল ইকবাল স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক। বর্তমানে তিনি বিএমএ চট্টগ্রাম শাখার সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন।

দুর্নীতি দমন কমিশন চট্টগ্রাম কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে রবিবার (৪ অক্টোবর) চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল ও চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের বিভিন্ন তথ্য চেয়ে চিঠি দিয়েছে দুদক। ওই চিঠিতে হাসপাতাল দুটির ২০০৮ সাল থেকে সব টেন্ডারের মাধ্যমে যত প্রকল্প বাস্তবায়ন ও সরঞ্জাম সংগ্রহ করা হয়েছে তার নথি তলব করেছেন দুদকের অনুসন্ধান কর্মকর্তা। একই সঙ্গে নোটিশে এ পর্যন্ত আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে দুই হাসপাতালে নিয়োগ করা জনবলের তালিকা চাওয়া হয়েছে। অন্যদিকে একই সময়ে নগরীর পার্কভিউ হাসপাতাল, মেডিক্যাল সেন্টার, ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল, সার্জিস্কোপ হাসপাতাল লিমিটেড, ডেল্টা হাসপাতাল লিমিটেড, ইউএসটিসি হাসপাতাল, সিএসসিআর হাসপাতাল, ন্যাশনাল হাসপাতাল লিমিটেড, এশিয়ান হাসপাতাল লিমিটেড, ওয়েল হাসপাতাল লিমিটেড, ইবনে সিনা হাসপাতাল, মেট্রোপলিটন হাসপাতাল লিমিটেড এবং ম্যাক্স হাসপাতাল লিমিটেডকে চিঠি দেওয়া হয়। চিঠিতে এইসব হাসপাতালের মালিকানায় কারা রয়েছেন তাদের তথ্য চাওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের অনুমোদন, পরিবেশ ছাড়পত্র, ফায়ার সার্ভিসের ছাত্রপত্রসহ হাসপাতালগুলোর যাবতীয় কাগজপত্র ঠিক আছে কিনা এসব যাছাই করা হবে। করোনাকালীন সময়ে এসব হাসপাতাল রোগীদের কী কী চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন এসব বিষয়ে তথ্যও চাওয়া হয়েছে।

শুধু হাসপাতালগুলোর তথ্য নয়, চট্টগ্রামে স্বাস্থ্য খাতের সঙ্গে জড়িত হাসপাতালের খাবার থেকে শুরু করে বিভিন্ন ওষুধপত্র, যন্ত্রপাতি সরবরাহসহ টেন্ডার প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িতদের সবার ব্যক্তিগত তথ্য অনুসন্ধান করা হচ্ছে। করোনাকালীন সময়ে স্মার্ট গ্রুপ হাসপাতালগুলোতে পিপিই সরবরাহ করেছিল। এসব পিপিই মান ঠিক ছিল কিনা সেটিও খতিয়ে দেখছে দুদক।