আটক অভিযানে পিরোজপুর সদর থানা পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা অংশ নেন বলে জানান ওসি। আটক সিরাজ শেখের বাড়ি পিরোজপুর সদর উপজেলার শারিকতলা-ডুমরিতলা ইউনিয়নের গুয়াবাড়িয়া এলাকায়। তার বাবার নাম সাত্তার শেখ।
ওসি জানান, চীনা নাগরিক লাওফাং হত্যার ঘটনায় অষ্টম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতুর প্রকৌশলী চাও চিং হুয়া বাদী হয়ে অজ্ঞাত পরিচয় আসামির বিরুদ্ধে পিরোজপুর সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
শারিকতলা-ডুমরিতলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি আজমীর হোসেন জানান, নিহত লাওফাং (৫৮) চায়না রেলওয়ে ১৭ ব্যুরো গ্রুপের সাব কন্ট্রাকটর ও টেকনিশিয়ান। তিনি সেতুর পাশেই কুমির মারা এলাকায় থাকতেন।
আজমীর হোসেন বলেন, ‘কুমির মারা এলাকার ৮শ’ গজের মত দূরে সেতুর পিয়ারের কাজ চলছে। সে কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের বেতন দিতে ব্যাগ ভর্তি টাকা নিয়ে সাইকেলে করে একাই রওনা দেন লাওফাং। এসময় তাকে ছিনতাইকারী ছুরিকাঘাত করে তার সঙ্গে থাকা টাকা নিয়ে যায়। সেখান থেকে স্থানীয়রা লাওফাংকে উদ্ধার করে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
পিরোজপুর জেলা হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার নিজাম উদ্দিন জানান, বুকের ডান পাশে ছুরির আঘাতে গভীর ক্ষত হয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে লাওফাংয়ের মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে চীনা নাগরিক খুন হওয়ার খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বরিশাল রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি শফিকুল ইসলাম। এর আগে বুধবার রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বরিশাল র্যাব-৮ এর সিও আতিকা ইসলাম ও বরিশাল রেঞ্জ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি এহসান উল্লাহ।
পিরোজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) মোল্লা আজাদ হোসেন জানান, বুধবার সন্ধ্যার পরে সাড়ে ৬টার দিকে পিরোজপুরের সদর উপজেলার কুমিরমারা গ্রামে প্রকল্প এলাকায় চিনা নাগরিক লাওফাং এর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। ছুরি, কিছু টাকা ও সাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।
পিরোজপুর সড়ক নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদ মাহমুদ সুমন জানান, লাওফাং নির্মাণাধীন সেতু এলাকায় থাকা তার আবাসস্থল থেকে লেবার শেডে লেবারদের বেতনের টাকা নিয়ে যাওয়ার সময় খুন হন।
আরও পড়ুন-